অভিনেত্রীদের নিখুঁত দেখানোর চাপ আরও বেশি হয়ে গেছে
অভ ন ত র দ র এখন – বাইরের মানুষের অতিরিক্ত বিচার ছিল না বলে কাজল আগরওয়াল বলেন, তিনি আগে অভিনয় শুরু করার সময় সামাজিক মাধ্যম ছিল না। সেই সময় বিমানবন্দরে কী পোশাক পরে যাচ্ছেন তা নিয়ে জবাবদিহি করতে হতো না। তিনি বলেন, তখন কোনো কিছু দিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হত না। সব সময় নিজের মতো করে কোথাও যাওয়া যেত।
বাস্তবতা অস্বস্তিকর
কাজল আগরওয়াল বলেন, সমাজে কীটনাশক আর খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল মিশ্রণের প্রভাবে তাঁর নতুন ছবি ‘দ্য ইন্ডিয়া স্টোরি’ বাস্তবতার আধারে নির্মিত হয়েছে। তিনি আগামী 24 জুলাই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার আশায় আছেন। এ ছবিতে তাঁকে আইনজীবীর পোশাক গায়ে সত্য উদ্ঘাটনের লড়াইয়ে নামতে দেখা যাবে। সেই সময় মনে হয়েছিল, এই বিষয়টি সবার সামনে তুলে ধরা দরকার। কারণ, সচেতনতা তৈরি হলেই মানুষ এ নিয়ে ভাববে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
‘এই ছবির কাহিনিকে ঘিরে গবেষণার তথ্যগুলো জানার পর বুঝতে পারি, আমরা অনেক সময় নিজেদের ছোট্ট জগতেই সীমাবদ্ধ রাখি। তাই আমার জন্য চোখ খুলে দেওয়ার মতো অভিজ্ঞতা। বাস্তবতাটা খুবই অস্বস্তিকর।’
নারী অভিনেত্রীদের নির্দিষ্ট সৌন্দর্যের মানদণ্ড মেনে চলার চাপ তখনো ছিল। কাজল আগরওয়াল বলেন, সমালোচনা ছিল। কিন্তু তা মূলত নির্মাতাদের কাছ থেকে আসত। কেউ চাইতেন তিনি একটু মোটা হই, কেউ চাইতেন আরও রোগা হই। তবে তখন পরিস্থিতি তুলনামূলক সহজ ছিল। এতটা নিষ্ঠুর ছিল না। বর্তমানে তাই পরিস্থিতি সত্যিই নির্মম।
কাজলের মতে, সবকিছুতে সম্মতি দেওয়ার চেয়ে প্রয়োজনে ‘না’ বলতে শেখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, শুধু সুযোগ পাওয়ার জন্য কোনো কিছুকে হ্যাঁ বলতে তিনি কখনো বাধ্য বোধ করেননি। কাজল আগরওয়াল বলেন, তাঁর বিশ্বাস ছিল যে কোনো কাজ হলে ভালো, না হলেও সেটি মেনে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার মানসিক প্রস্তুতি তাঁর ছিল।
মূল্যবান গল্পে অংশ নেওয়ার আনন্দ
কাজল আগরওয়াল বলেন, আগামী দিনে নিতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’ ছবিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে তাঁকে দেখা যাবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত শুধু প্রথম পর্বের শুটিং করেছি। আর অবশ্যই এতে লঙ্কার অংশ তুলনামূলকভাবে ছোট। আমি মন্দোদরীর চরিত্রে অভিনয় করছি। তাই স্বাভাবিকভাবেই আমার চরিত্রটিও খুব সীমিত।’ ছবির পর্দায় উপস্থিতি সীমিত হলেও এত বড় একটি চলচ্চিত্র প্রকল্পের অংশ হতে পেরে দারুণ উচ্ছ্বসিত কাজল বলেন, ‘সত্যি বলতে অভিজ্ঞতাটা অসাধারণ। আর আমাদের হৃদয়ের এত কাছের একটি গল্পের অংশ হতে পেরে আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।’
