বিচারের দাবি অবিচারের বালি হয়ে উঠতে পারে
ব চ র র দ ব ও – পল্লবীর শিশুধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার পর যেমন জনমনে আতঙ্ক ছড়ায়, তেমন মাগুরায় সংঘটিত নৃশংস ঘটনার প্রতি একই প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এসব ঘটনার কারণে সামাজিক চাপ তৈরি হয়েছে, যেখানে দ্রুত ও স্পষ্ট শাস্তি বাস্তবায়নের দাবি উঠেছে। তবে এই দাবিগুলো কখনো কখনো বিচারব্যবস্থার নিষ্ফলতার প্রতিফলন হিসেবে চিহ্নিত হয়।
বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং দুর্বল প্রমাণ
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারহীনতার সংস্কৃতি যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা স্পষ্ট। অপরাধীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বাঁচিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। ফলে বিচার প্রক্রিয়ায় তারা যে প্রাধান্য অর্জন করেছে, তা স্বাভাবিক বলে মনে হয়।
সরকার (পল্লবীর শিশু) হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করবে এবং সেই সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড।
বিচারহীনতার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বুদ্ধিজীবীদের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছিল। সেই কারণে কোনো কোনো সময় তারা সাধারণ মানুষের ক্ষোভের প্রতি সম্মতি জানানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এই প্রতিক্রিয়া কখনো কখনো অবিচারের প্রাণস্পর্শী মাধ্যম হয়ে ওঠে।
এখনও জনতা ভাষায় সরাসরি প্রকাশ্য শাস্তি চাইছে। তবে একটি মামলার দ্রুত রায় দেখায় যে অন্যান্য মামলার সমাধান তেমন হবে না। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে কেবল ৫৯ মেয়ে ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। প্রতিদিন নতুন ঘটনা ঘটছে, যার প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চাই।
বিচারপ্রক্রিয়া ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া
ফ্রান্সে সংঘটিত দ্রেফাস ঘটনা হানা আরেন্ড ইউরোপে সর্বাত্মকবাদের বিক্ষোভের বালি হিসেবে প্রসিদ্ধ হয়েছিল। তখন বিচার প্রক্রিয়া বিক্ষুব্ধ জনতার সহযোগিতার মাধ্যমে সীমাবদ্ধতা অপসারণ করা হয়েছিল। এখন সেই প্রতিক্রিয়া আবার বিচারব্যবস্থার বিপদের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে।
বিচারহীনতাই যে এই ক্ষোভের মূল উৎস, তা স্পষ্টত বোঝা যায়।
আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনা ভাইরাল হয়ে ওঠার পর রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি তৈরি হয় যেখানে কোনো কোনো ঘটনা সুবিধাজনক হওয়ায় জনগণ বিচারের দাবি অবিচারের বালি হয়ে ওঠে।
যেমন সরকার প্রধান ক্ষোভের বিস্ফোরণে জনগণের দাবি আকর্ষণ করেছিলেন। পরে তিনি দ্রুত বিচারের প্রতি আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে অবিচারের সামগ্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি কোনো কোনো সময় বিচারব্যবস্থার বিপদের নিকট পৌঁছে গেছে।
