অনলাইন বেটিং ও ম্যাচ-স্পট ফিক্সিংয়ে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড প্রবর্তন
অনল ইন ব ট ম য চ – জাতীয় সংসদ জুয়া প্রতিরোধ বিল–২০২৬ পাস করেছে, যা অনলাইন বেটিং এবং ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিং সহ বিভিন্ন ধরনের জুয়া বিরোধে নতুন আইন প্রবর্তনের প্রস্তাব গ্রহণ করে। আইনে অনলাইন বেটিং নিয়ে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড নিশ্চিত করা হয়েছে।
১৮৬৭ সালের আইন রহিত করা হলো
নতুন বিলটি পুরোনো দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট প্রতিস্থাপন করছে। বিলের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধের প্রকৃতি ভেদে ১৪ ধরনের সাজার বিধান গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে মোট ২৪ ধরনের বিষয় সংজ্ঞায়ন করা হয়েছে।
বিরোধীদের আপত্তি প্রতিক্রিয়া
বিলের বিরুদ্ধে বিরোধী দল আপত্তি প্রকাশ করেছে। কেউ ওয়েবসাইট, নিউজ পোর্টাল বা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্লক করার ক্ষমতা দেওয়া হলে নাগরিক অধিকারের গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
“জুয়া প্রতিরোধের কথা বলে সরকারের সমালোচনাকারী কোনো ওয়েবসাইট, নিউজ পোর্টাল বা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেওয়া হতে পারে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনও একসময় বিরোধী মত দমনে ব্যবহার করা হয়েছিল।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিবাদ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এখন সাইবার স্পেসে জুয়া হচ্ছে এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া অপরাধের আলামত বা স্থান সরিয়ে ফেলার ঝুঁকি রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিভিন্ন আইনে পুলিশের তল্লাশি ও জব্দের ক্ষমতা রয়েছে, এই বিলেও সেই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।
সংশোধনী এবং সমালোচনা
জব্দের পর ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নেওয়ার বিধান যুক্ত করা দরকার বলে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান বলেন, এই ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। তিনি বিলের ভিন্নমত অনুসারে কোনো সংশোধনী গ্রহণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া কমিটিতে
বিলের ওপর বিরোধীদের জনমত যাচাই–বাছাই কমিটিতে প্রেরণ করা হয়। কেউ অনলাইন বেটিংয়ে সম্পৃক্ত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে। ম্যাচ ফিক্সিংয়ে অপরাধী দুই বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা দণ্ড পাবেন।
বিরোধীদের চিফ হুইপ প্রতিক্রিয়া
বিল পাসের পরে বিরোধীদলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, তাঁরা আইনটির পক্ষপাতী। কিছু সুনির্দিষ্ট ধারার সংশোধনী গ্রহণ করলে আইনটি আরও সাদরে গ্রহণ করা যেত। তিনি আহ্বান জানান, সরকার আইনের অপব্যবহার প্রতি সতর্ক থাকুক।
