পঞ্চগড়ে শতবর্ষী ‘পাগলির মেলা’ উপলক্ষে উৎসব
পঞ চগড় শতবর ষ প গল র – পঞ্চগড় সদর উপজেলার শেখপাড়া গ্রামে বসে ছিল শতবর্ষী পাগলির মেলা। বাঁশি বাজানো হয়, নাগরদোলা বাজানো হয়, মাটির তৈজসপত্র বিক্রি হয়, চুড়ি ও ফিতা বিক্রি হয়, মুড়ি-মুড়কি ও গুড়ের জিলাপি বিক্রি হয় এমন একটি দোকান থাকে। এ উপলক্ষে গ্রামের সড়কের পাশে উঠে প্রাঙ্গণটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
গতকাল শনিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত এ মেলা সম্পূর্ণ পঞ্চগড়ে জমে উঠেছিল। মহররম মাসের ১১ তারিখে অনুষ্ঠিত হওয়া এ উৎসব গ্রামটির পুরো জনগণের জন্য পরিচিত। প্রতিবছর এ দিনে কাঁচা সড়কে বসে মেলাটি সংগঠিত হয়।
আমিরনের কাহিনী থেকে উৎসবের উপরিপত্তি
প্রায় শতবর্ষ আগে শেখপাড়া গ্রামে বসবাস শুরু করেন আমিরন নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা। গৃহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘন গাছপালা ও ঝোপঝাড়ে ঘেরা এই গ্রামে তিনি একা থাকতেন। তবে আশুরার সময় তিনি মানুষের মাঝে আসেন এবং মহররম ও আশুরা নিয়ে গীত শোনাতেন।
তিনি মৃত্যু হলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে গ্রামের সড়কের পাশে সমাহিত করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর কবর হতে দোয়া ও ফাতেহা পাঠ করা শুরু হয়। ধীরে ধীরে এ কাজটি রীতি হিসেবে পরিচিতি পায়। কবরটি এখন পাগলির মাজার হিসেবে পরিচিত।
প্রতিবছর মহররম মাসের ১১ তারিখে আমরা এ মেলায় দোকান নিয়ে আসি। বহু বছর থেকে এই মেলা হয়। যখন ছোট ছিলাম, তখন আমার বাবা এখানে মেলার দিনে দোকান নিয়ে আসতেন। তখন বাবার সঙ্গে আমিও আসতাম। ঠিক কত দিন থেকে এ মেলা হচ্ছে জানি না। তবে শুনেছি, আমার দাদারা মুড়ি-মুড়কি বিক্রি করতেন।
পাগলির মেলার উপলক্ষে পুরো গ্রাম উৎসবমুখর হয়। প্রতিটি বাড়িতে ভালো রান্না হয়। প্রায় সবারই মেয়ে ও জামাতা সহ অন্য আত্মীয়স্বজন আসেন।
মেলাটি মূলত আমাদের বাড়ির সামনে হয়। এ জন্য একটু দেখাশোনা করতে হয়। এই মেলা পরিচালনার কোনো কমিটি নেই। প্রতিবছর ১১ মহররমের দিনে দোকানদার ও দর্শনার্থীরা ভিড়ে আসে। কেউ কেউ পাগলির মাজার জিয়ারত করে দোয়া করেন। আমি যেমন ছোটবেলা থেকে এ রকম মেলা লাগতে দেখছি, আমার বাবাও এভাবে দেখেছেন বলে শু
