মনপুরায় জেলের জালে তিন বছর বয়সী ‘রাজা’ ইলিশ, এলাকায় শোরগোল
মনপ র য় জ ল র জ – ভোলার মনপুরা উপজেলার কলাতলী চর এলাকায় মেঘনা নদী থেকে তিন বছর বয়সী একটি বড় ইলিশ ধরা পড়ে। মাছটির ওজন ২ কেজি ৪০০ গ্রাম। স্থানীয়দের কাছে এটি পরিচিত হয়েছে ‘রাজা ইলিশ’ নামে। জেলে কামাল মাঝি আবাসন খাল সংলগ্ন জালে মাছটি ধরেন। পরে এটি রামনেওয়াজ মৎস্যঘাটে আনা হয়।
মৎস্যঘাটে আসা মাছটি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ছাড়া দেয়া হয়। বড় আকারের ইলিশ যে কোনও ব্যবসায়ীর আগ্রহ তৈরি করে। এ ঘটনা সংঘটিত হয় শনিবার ভোরে। মৎস্যঘাটের ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিন ফরাজি প্রথম আলোকে বলেন, মাছটি নিলামে বিক্রি হয়েছে আর তার ওজন প্রকৃতপক্ষে ২ কেজি ৪০০ গ্রাম। তিনি জানান, এ সময় বিক্রয় দাম প্রায় ৮ হাজার ১০০ টাকা।
“অনেকে ফেসবুকে ২ কেজি ৮০০ গ্রাম, কেউ ৩ কেজি লিখছে। আবার ৯ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে বলেও পোস্ট দিছে। আসলে মাছটার ওজন ২ কেজি ৪০০ গ্রাম আর বিক্রি হয়েছে ৮ হাজার ১০০ টাকায়,” বলেন শাহাবুদ্দিন ফরাজি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. রাজীব চৌধুরী ইলিশটি কিনে নেন। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসলে মেঘনা মোহনায় ইলিশের চলাচল বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এবার জেলেদের আশানুরূপ ইলিশ ধরা পড়ছে না। তবে কিছু বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়লে তা জেলেদের নতুন আশা জাগায়।
ভোলা জেলার মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, বড় ইলিশ ধরা পড়ার পেছনে জৈবিক ও মৌসুমি কারণ আছে। তিনি জানান, এ ধরনের মাছ সাধারণত বয়সে বড় হয়। ধরা পড়া মাছটি বয়স দুই বছরের বেশি, তিন বছরের কাছাকাছি হতে পারে। মাছটির পেটে ডিম ছিল।
তিনি আরও বলেন, ইলিশ সারা বছর ডিম দিতে পারে। কিন্তু ভাদ্র-আশ্বিন মাসে বৃষ্টি বৃদ্ধি পেলে নদীর পানি ও স্রোত বেড়ে যায়। তখন মাছগুলো বেশি দলে দলে আসে এবং ডিম ছাড়ার প্রবণতা বাড়ে। কর্মকর্তা মনে করেন, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষার জন্য নদীতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এতে কিছু মাছ বড় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ছোট আকারের মাছ নির্বিচারে ধরা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে বড় ইলিশ পাওয়া সম্ভাবনা কমে যাবে। রামনেওয়াজের বাসিন্দা মো. লোকমান হোসেন মনে করেন, বড় ইলিশ ধরা পড়া মনপুরার নদীপাড়ের মানুষের জন্য শুধু বাজারদর নয়, এটি আবেগ হিসেবেও মনে হয়।
ভোরের নদী, জেলের জাল, ঘাটের হাঁকডাক আর নিলামের ভিড় সব মিলিয়ে একটি বড় ইলিশ যেন কিছু স
