চন দ র বত: প্রেমের ছায়ায় ভেসে গেছে চন্দ্রাবতী
চন দ র বত – ফুলেশ্বরী নদীর পানি ফুলে ফেঁপে উঠছে এমন সময় আসে চন্দ্রাবতীর জীবনের আরেক মূল্যবান মুহূর্ত। সে বিয়ের শাড়ি পরে আকাশপানে চেয়ে আছে। কিন্তু এ দিন চন্দ্রাবতীর হৃদয়ের অশ্রু বোধ হয় দুই পারের গ্রাম প্লাবিত করে ফুলেশ্বরী নদীর মতো তার সবচেয়ে সুখের দিন হওয়ার কথা ছিল না। জয়চন্দ্রের প্রেমে অপমান পেয়ে সে আজ এক ব্যর্থ নারী হয়ে পড়েছে। তার জীবন আর জ্বলে যাচ্ছে বিরহের অনলে। চন্দ্রাবতী কিছুতেই বুঝতে পারছে না কেন চন দ র বত তার প্রেমের খেলা তুলে নিয়েছে আসমানীকে।
ফুলেশ্বরী নদীর তীরে বড় হওয়া প্রেমের স্বপ্ন
চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র ফুলেশ্বরী নদীর তীরে খেলে হেসে গেয়েছিল সব জীবনের স্বপ্নগুলো। তারা একসঙ্গে বড় হয়েছে এই স্থানে যেখানে জলেশ্বরীর সুখস্মৃতি সমৃদ্ধ ছিল। সে নদীতে বেরসিক রোদ সাজিয়ে দিয়েছিল চন্দ্রাবতীর অপরূপ রূপ। গোলাপ নামক বাগানে তার চোখে তার চোখ নেই বলে চন্দ্রাবতী খেলে ওঠে কিন্তু জয়চন্দ্র তার মনের স্বপ্ন তুলে নিয়েছে একটি প্রহসনের গানে।
এক সময় বিয়ে করার আশ্বাস দেয়ার পর জয়চন্দ্র এখন চন্দ্রাবতীকে প্রত্যাখ্যান করেছে। চন দ র বত এখন আসমানীকে নিয়ে নৌবিহারে ভেসে বেড়াচ্ছে এমন দৃশ্য চন্দ্রাবতীর কাছে বিরহের অনুভূতি আরও শক্ত হয়েছে। বাবা তার কষ্টে হু হু করে কাঁদছেন। সে জয়চন্দ্র অপরূপ চন্দ্রের অপেক্ষায় বসে আছে। কিন্তু এ সময় তার মনে একটি ভয় ছড়ায় যে জয়চন্দ্র আসবে না এই ভাবে চন্দ্রাবতী আর কোনো আশা নেই।
প্রেমের ভেসে ভেসে নদী রূপে জয়চন্দ্রের বিয়ের তালামুল ভেসে গেল
ফুলেশ্বরী নদীতে জোনাকির আলোক মেখে নিজেকে সাজিয়েছে চন্দ্রাবতী। কিন্তু জয়চন্দ্র কথা দেয় তার সামর্থ্যের সবটুকু উজাড় করে বৈদিক ধর্মমতে সমাজের নিয়মকানুন মেনে তার গ্রামের সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চন্দ্রাবতীকে বিয়ে করতে হবে। সে তবুও বিয়ে করে না চন দ র বত এমন সময় জয়চন্দ্র আসমানীকে নিয়ে অপরাধ করে গেছে। চন্দ্রাবতীর মন স্তব্ধ হয়ে গেছে। সে তার ধর্মের কাছে আসমানীর প্রতি অপরাধের প্রমাণ চাচ্ছে।
একদিন সাজে বরের বেশে জয়চন্দ্র ফুলেশ্বরী গভীরে আসে। কিন্তু এটি চন্দ্রাবতীর জন্য নয়, আসমানীকে নিয়ে সে নৌকার সুরে নৌবিহারে ভেসে বেড়াচ্ছে। কামনার নদীতে জোয়ারে ভেসে যাওয়া দেখে চন্দ্রাবতী দীর্ঘশ্বাস ফেলে। সে আর বুঝতে পারছে না কেন চন দ র বত তাকে ছেড়ে যাচ্ছে। ফুলেশ্বরী নদী বন্দর থেকে তার অশ্রু এসে ক্ষত ছড়ায়।
হঠাৎ একটি পথিক উঠানে দাঁড়ায়। সে বলে কিছুতেই জয়চন্দ্র আসবে না। চন্দ্রাবতীর জীবন আর সুখের দিন হবে না। তার হৃদয়ে প্রেমের সুর বিসর্জন দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সে এখন তার ধর্মের বেশি জোর দিচ্ছে। চন দ র বত বিয়ে করে আসমানীকে সে তার সম্মতি দিয়েছে। তার জীবন আর জ্বলে যাচ্ছে বিরহের অনলে।
জয়চন্দ্র বলে সে কামনার নদীতে জোয়ারে ভেস
