বিদেশি গবেষকের চোখে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রধান সমস্যা
ব দ শ গব ষক র চ – ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত সেমিনারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমস্যাগুলো আলোচনা করেন বিদেশি গবেষক ফার্নান্দো ক্যাসাল বের্তোয়া। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ও প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে তহবিল দেওয়া প্রয়োজন। যুক্তরাজ্যের নটিংহ্যাম ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ফার্নান্দো বের্তোয়া এই মূল প্রবন্ধে দুর্নীতি, দুর্বল দলীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা আর নারীদের সীমিত প্রতিনিধিত্ব তিনটি মূল সমস্যা হিসেবে তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষীণতা প্রকাশ করেছে
ফার্নান্দো বের্তোয়া বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য উল্লেখ করেন যে দুর্নীতির ক্ষেত্রে দেশের অবস্থান উদ্বেগজনক। ভ্যারাইটিজ অব ডেমোক্রেসি ডেটাসেটের তথ্য অনুযায়ী গণতান্ত্রিক দলগুলো নিয়ে রাজনৈতিক ব্যবস্থার অস্থিতিশীলতা প্রকট হয়েছে।
ফার্নান্দো বের্তোয়া মনে করেন, শক্তিশালী ও স্থিতিশীল দলীয় ব্যবস্থা ছাড়া গণতন্ত্র টেকসই হয় না। ইউরোপের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস থেকে এটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে প্রাতিষ্ঠানিক দলগুলো সুসংহত গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলো এখনো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ গড়ে ওঠেনি। নেতৃত্ব নির্বাচন, প্রার্থী বাছাই বা অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তির মতো বিষয়গুলোতে স্থায়ী পদ্ধতি গড়ে ওঠেনি বলে তিনি দাবি করেন। এ কারণে দলগুলো ক্ষমতার স্থায়িত্ব ও গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে থাকতে পারে না।
রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সংগ্রাম
ফার্নান্দো বের্তোয়া জনপ্রিয় অর্থায়ন প্রতিযোগিতার সামনে অস্থির প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা প্রমাণ করেছেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে তহবিল দেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে এবং দুর্নীতি কমাতে সহায়তা করে। এর পাশাপাশি জনসমর্থন পেতে এবং প্রতিযোগিতা ভারসাম্যপূর্ণ করতে সহায়তা করে।
তিনি বলেন, শুধু গাজর নয়, লাঠিও প্রয়োজন। এ ধরনের অর্থায়নের পাশাপাশি স্বচ্ছ হিসাব, ব্যয়ের সীমা ও কার্যকর শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে
