চট্টগ্রামে শিশুধর্ষণ মামলায় বিচার সমাপ্ন হয়েছে
চট টগ র ম শ শ ধর – বাকলিয়ায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের মামলায় আসামি মনির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড করেছে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল (মহানগর)। তাঁকে আরও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার সাথে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে আদালত রায় পড়া শুরু করেন এবং বেলা তিনটায় সেই রায় ঘোষণা করেন বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা।
রায়ে বলা হয়, শিশুধর্ষণ হল মানুষের প্রতি সর্বোচ্চ অপরাধ। এ ধরনের ঘটনা শিশুর শারীরিক ক্ষতি ছাড়াও তাদের মানসিক বিকাশ ও স্বাভাবিক জীবন গৃহিত ক্ষতি সৃষ্টি করে। শিশু সমাজ সবচেয়ে অসহায় এবং তাদের সুরক্ষা রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজের সংযুক্ত দায়িত্ব।
কোনো ব্যক্তি যখন শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন চালায়, তখন সে শুধু একটি শিশুর অধিকার লঙ্ঘন করে না, বরং সমাজের নৈতিক ভিত্তিকে আঘাত করে।
মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া
বাকলিয়া থানা পুলিশ বিচার শুরু হওয়ার আট কার্যদিবসের মধ্যে মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন। পাঁচ দিনের তদন্ত শেষে গত ৪ জুন অভিযোগপত্র আদালতে পৌঁছে। আসামি হিসেবে মনির হোসেন নির্ধারণ করা হয়।
অভিযুক্ত গ্রেপ্তারের ঘটনা
গত ২১ মে অভিযুক্তকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার করার সময় লোকজন তাঁকে হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানান। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পুলিশের গাড়ি ঘিরে উত্তেজিত সমুদয় একত্রিত হয়। শত শত মানুষ পুলিশকে চাপানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কৌশলে অভিযুক্তকে ভবন থেকে বের করে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়। রাত সোয়া ১০টার দিকে বিদ্যুৎ চলে গেলে উত্তেজনার সাথে সংঘর্ষ ঘটে।
সমাপ্তি ও আরেকটি মামলা
রায় পড়ার পর শিশুটির মা বলেন, তাঁরা ন্যায়বিচার পেয়েছেন। তবে ফাঁসি হলে আরও খুশি হতেন। চট্টগ্রাম আদালতে আজ দুটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে আলিনা ইসলাম আয়াতের খুনের মামলায় মো. আবিরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। সেই রায় ঘোষণা করেন জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস।
