বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও স্মৃতির ১১তম অধ্যায়
বন ধ ত ব ভ ল ব – সময় চলে যায়, মানুষ বদলে যায়, জীবনের ব্যস্ততা আমাদের চারপাশে অদৃশ্য দেয়াল তুলে দেয়। তবু কিছু সম্পর্ক থাকে, যা বছরের পর বছর পেরিয়েও হৃদয়ের গভীরে অমলিন থেকে যায়। শৈশবের সহপাঠী, মাদ্রাসার দিনগুলো, একসঙ্গে কাটানো হাসি-কান্নার মুহূর্ত—কিছুই হারিয়ে যায় না।
ঈদ আসে আনন্দ নিয়ে, আর সেই আনন্দকে আরও পূর্ণতা দেয় প্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে পুনর্মিলনের সুযোগ। বরাবরের মতো এবারও ঈদের তৃতীয় দিন পুনর্মিলনীর দিন নির্ধারণ করা হয়। আমাদের শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত ছালেহাবাদ এম.এস. দাখিল মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় দিনের কার্যক্রম।
আগেই ঘোষণা অনুযায়ী সকাল ৯টার মধ্যে সবার উপস্থিত থাকার কথা ছিল। অধিকাংশ বন্ধু সময়মতো উপস্থিত হলেও কয়েকজনের স্বভাবসুলভ দেরি ছিল, যা বন্ধুত্বের হাস্যরসাত্মক অংশ হিসেবেই থেকে যায়। মাদ্রাসায় পৌঁছে আমরা প্রথমে অফিসকক্ষে উপস্থিত হই। সেখানে আগে থেকেই অনেক সহপাঠী আড্ডা ও স্মৃতির স্মৃতিচারণায় মেতে ছিলেন।
আমরা দীর্ঘ সময় নানা বিষয়ে আলোচনা ও স্মৃতির গল্পে সময় কাটাই। এরপর হুজুর আমাদের তাঁর বাসায় আমন্ত্রণ জানান। মাদ্রাসার কাছেই তাঁর বাসা হওয়ায় সবাই একসঙ্গে সেখানে যাই। তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের নাশতা ও পানীয়ের ব্যবস্থা করেন। তাঁর এই ভালোবাসা ও আপ্যায়ন আমাদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। আমরা তৃপ্তি নিয়ে নাশতা গ্রহণ করি এবং তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।
পরে মাদ্রাসায় ফিরে এসে দেখা যায়, এখনো কয়েকজন বন্ধু অনুপস্থিত। গ্রুপ ছবি তোলার জন্য সবাইকে একত্র করা জরুরি ছিল। এই ফাঁকে নোয়াপাড়া থেকে পুরস্কারের সামগ্রী সংগ্রহ করা হয়। সবশেষে ছিল হাড়িভাঙা খেলা। চোখ বেঁধে ঘুরিয়ে দেওয়ার পর অংশগ্রহণকারীরা কখনো ডানে, কখনো বাঁয়ে চলে যাচ্ছিল, আর দর্শকদের হাসিতে চারপাশ মুখর হয়ে উঠেছিল। এই খেলাগুলো যেন কয়েক ঘণ্টার জন্য সবাইকে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল শৈশবের সেই নির্ভেজাল আনন্দে।
বয়স বাড়লেও সেই হাসি-আনন্দের অনুভূতি আজও অটুট। বিকেলের শেষ আলো ধীরে ধীরে সন্ধ্যায় মিলিয়ে গেলে সবাই বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নেয়। বিদায়ের মুহূর্তে আনন্দের পাশাপাশি চোখেমুখে ছিল এক অদৃশ্য আবেগ। কারণ, এই মুহূর্তগুলো বারবার আসে না, কিন্তু স্মৃতিগুলো থেকে যায় আজীবন।
আজ আমরা কেউ চাকরিতে, কেউ ব্যবসায়, কেউ প্রবাসে, আবার কেউ উচ্চশিক্ষায় ব্যস্ত। তবু এই পুনর্মিলনী প্রমাণ ক
