সব মসলা থাকার পরও জমল না শুভ–মিমের ‘মালিক’
সাইফ চন্দনের মালিক
সব মসল থ ক র পরও জমল – সিদ্দিক আহমেদ চিত্রনাট্যে নেয়া অ্যাকশন-থ্রিলার ধরনের ‘মালিক’ সিনেমাটি ছিল বাণিজ্যিক সিনেমার সব উপাদান গুছিয়ে রেখে তৈরি। বেরিগঞ্জের জেটিঘাট থেকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করে সিন্ডিকেট চলে। সিন্ডিকেটের দুই প্রধান চরিত্র হল আলাউদ্দিন (মিশা সওদাগর) ও জর্জ (বড়দা মিঠু)। আলাউদ্দিনের মারামারির কারণে এলাকায় ছেলে আমিরকে (আরেফিন শুভ) নিয়ে ফিরে আসে ভাবিজি (নিমা রহমান)। চিত্রনাট্যের মাঝে ত্রিমুখী দুর্ঘটনার প্রতিক্রিয়া হয়।
মায়াবতী (বিদ্যা সিনহা মিম) আবির্ভূত হয় ক্ষমতার যুদ্ধের মাঝখানে। কিন্তু তার সঙ্গে আমিরের সম্পর্কের দৃশ্যগুলো স্পষ্টভাবে অনুপ্রাণিত হয়নি। আইটেম গান ‘গুলগুলি পিঠা’র জন্য সম্পাদনা বিশেষ করে খুব অসুবিধা করেছিল। অভিনেত্রীদের অভিনয় বলা হয়েছিল আরোপিত।
অ্যাকশন দৃশ্যগুলোর অসুবিধা
সিনেমার শুরুতে আরিফিন শুভের চরিত্র ও স্লো মোশন অ্যাকশন দৃশ্যগুলো ভালোভাবে জমেছিল। কিন্তু সিনেমা এগোতে থাকার সাথে সাথে সম্পাদনা বেহাল হয়ে ওঠে। একবার বর্তমান, একবার ফ্ল্যাশব্যাক দেখাতে গিয়ে লেজেগোবরে করা হয়েছিল। কয়েকটি দৃশ্যে সময় কাটিয়ে প্রায় পরিচিতি ছাড়া চরিত্র হাজির হয়।
পরিচালক ছিলেন ‘আম্মাজান’ সিনেমা থেকে বেশ অনুপ্রাণিত।
আরেফিন শুভের অভিনয় মনে হয় আরোপিত। যেমন কিছু দৃশ্যে তার দীর্ঘ মনোলগ বিরক্তি তৈরি করেছিল। মিশা সওদাগর ও বড়দা মিঠুর পার্শ্বে সবার অভিনয় মনে হয় আরোপিত। মায়াবতীর সঙ্গে আমিরের সম্পর্ক সুস্পষ্ট করতে পারেননি নির্মাতা।
ঈদের মৌসুমে সফলতা ছাড়া মালিক
ঈদের মৌসুমে বিনোদনধর্মী বাণিজ্যিক সিনেমা উপহার দিতে চেষ্টা করেছিল নির্মাতা। কিন্তু চিত্রনাট্য, সম্পাদনা ও দুর্বল নির্মাণের কারণে সে চেষ্টা সফল হয়নি। আগের ঈদে প্রেশার কুকারে সিন্ডিকেটের চরিত্রে ভিন্ন লুকে হাজির হয়েছিল আজিজুল হাকিম। পাগলীর চরিত্রে মনিরা মিঠু ভালো করেছিলেন।
পর্দায় আরিফিন শুভের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিমা রহমান। তার চরিত্র পুরোনো বাংলা সিনেমার দাপুটে মা চরিত্রগুলো মনে করিয়ে দেয়। চিত্রনাট্যের মাঝখানে আরেকটি চমক ছিল। কিন্তু সেটা পুরোপুরি হাজির করতে পারেননি নির্মাতা। শেষ অ্যাকশন দৃশ্যটিও মনে রাখার মতো কিছু হয়নি।
মেশিনগান ছেড়ে গিটার হাতে শাকিব আবার হাজির হয়েছিল ‘রকস্টার’ চলচ্চিত্রে। কিন্তু সিনেমার সম্পাদনা এতটাই দুর্বল যে কিছু দৃশ্যে বলা হয়, ২০ বছর পর ফিরেছে ভাবিজি, আরেকটি দৃশ্যে আমির দাবি করে ১৫ বছর। সিনেমায় বন্দরের ঘটনা সম্পূর্ণ ভালোভাবে দেখানো হয়নি।
