বৈদেশিক ঋণ নাকি স্বনির্ভরতা: ইসলামের প্রস্তাব কী
ব দ শ ক ঋণ ন ক – বর্তমান আর্থিক ব্যবস্থায় ঋণ গ্রহণ সাধারণত গৃহীত একটি প্রক্রিয়া হলেও এর বিপর্যস্ত প্রতিক্রিয়া আমাদের জাতীয় অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় প্রতিফলিত হয়েছে। ঋণ বোঝা এবং সুদের প্রভাব বিশাল অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সূচনা থেকে বিপর্যস্ত করে আনে যে কোনো উন্নয়নশীল দেশ। প্রতি বছর বিদেশি সংস্থার দ্বারা প্রদত্ত ঋণের সুদ পরিশোধ খাতে বাজেটের একটি বড় অংশ ব্যয় হয়ে থাকে, যা প্রতিযোগিতার সাথে সম্পর্কিত কোনো উৎপাদন কাজে লাগে না।
ইসলাম ব্যক্তি বা রাষ্ট্র যে কোনো সময় অহেতুক ঋণ গ্রহণের প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যার পরিণতি হলো মানুষের মানসিক স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদার ক্ষয়। আন্তর্জাতিক ঋণ সাধারণত কোনো দেশের বৈদেশিক ক্রেডিট বা বাজেট ঘাটতি মেটানোর জন্য ব্যবহার করা হয়, যা তাদের সার্বভৌম অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণের স্বাধীনতা হ্রাস করে।
আধুনিক দিনে বিদেশি ঋণের প্রধান আঘাত হলো সুদ বা রিবা। বাজেট সংকটের মূল কারণ হলো সুদভিত্তিক আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার শোষণ, যা গরিব দেশগুলোকে চিরকাল ঋণের বোঝার আঁতে বাঁধে। ড. এম. ওমর চাপরা মতে উন্নয়নশীল দেশগুলো সুদের চক্রে স্থায়ী হারাচ্ছে যার ফলে তাদের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো স্বাধীন করে তুলতে সক্ষম হয় না। (ড. এম. ওমর চাপরা, টুওয়ার্ডস আ জাস্ট মনিটারি সিস্টেম, পৃষ্ঠা: ৬৩-৬৫, দ্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন, লেস্টার, ১৯৮৫)
অর্থনৈতিক নীতি ও স্বাধীনতা
রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের জন্য বিদেশি ঋণ নেওয়া সাধারণত অত্যাচারের পরিচয়। এর ফলে সমগ্র জাতি বিদেশি পুঁজির ক্রমাগত বোঝার সাথে সংযুক্ত হয়ে পড়ে। ইসলামের আর্থিক দৃষ্টিভঙ্গি স্বাধীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি প্রীতি ও শিক্ষা প্রদান করে। বাজেট প্রণয়নের সময় আত্মনির্ভরশীলতা ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ মোবিলাইজেশন ও নিজস্ব আয়ের ওপর ভিত্তি করে বাজেট প্রস্তাব করা হয়।
রাসুল (সা.) নিয়মিত দোয়ায় ঋণ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আপনি ঋণ থেকে এত বেশি আশ্রয় প্রার্থনা করেন কেন
