কক্সবাজারে যে উপায়ে হচ্ছে বিষমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর শুঁটকির উৎপাদন
কক সব জ র য উপ য় – বাজারে পাওয়া শুঁটকিগুলোতে প্রায় সবগুলো কীটনাশক সহ বিভিন্ন রাসায়নিক বস্তু থাকে। এজন্য নিরাপদ শুঁটকি খুঁজতে অনেক ব্যবসায়ী ও গ্রাহক সমস্যায় পড়ে। কক্সবাজারে প্রতি বছর সাড়ে ৫৯৯ কোটি টাকার শুঁটকি উৎপাদিত হলেও গুণগত মানের প্রতিকূলতা রয়েছে। পরমাণু গবেষকদের অনুসন্ধানে বিষমুক্ত শুঁটকি উৎপাদনের একটি নতুন পদ্ধতি বাস্তবায়িত হয়েছে।
গবেষণার ফলে চিহ্নিত হয়েছে শুঁটকির প্রধান শত্রু হিসেবে নীলচে সবুজ রঙের মাছি বা ‘ব্লোফাই’। এই মাছি মাছ শুকানোর সময় তার গায়ে ডিম পাড়ে এবং লার্ভা মাছের ভেতরের অংশ খায়। পরে কীটনাশকের ব্যবহারে শুঁটকি বাঁচানো হয়। কক্সবাজার সৈকত খনিজ বালি আহরণ কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক যন্ত্রটি যার নাম ‘গামা সোর্স বা কোবাল্ট-৬০’। যন্ত্রটির মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা।
পরমাণু বিজ্ঞানীরা বলছেন, মাঠের মাছি গবেষণাগারে এনে কৃত্রিমভাবে লাখ লাখ মাছি উৎপাদন করা হয়। মাছির মূককীট বা পিউপা দশায় নির্দিষ্ট মাত্রায় গামা রশ্মি প্রয়োগ করলে তাদের প্রজনন অঙ্গ নিষ্ক্রিয় হয়। ফলে বন্ধ্যা হওয়া পুরুষ মাছি স্বাভাবিক স্ত্রী মাছির সঙ্গে মিলিত হলেও ডিম হয় না। তিনি আরও বলেন, লার্ভা থেকে শুঁটকি বাঁচানো হয় বিষাক্ত কীটনাশকের মাধ্যমে। এই বিষাক্ত শুঁটকি খাওয়ার ফলে মানুষের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে এবং ক্যানসার, লিভার, কিডনি ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
“মাঠের মাছি গবেষণাগারে এনে কৃত্রিমভাবে লাখ লাখ মাছি উৎপাদন করা হয়। মাছির মূককীট দশায় নির্দিষ্ট মাত্রায় গামা রশ্মি বা রেডিয়েশন দিলে তাদের প্রজনন অঙ্গ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং তারা বন্ধ্যা হয়ে যায়। ফলে স্ত্রী মাছির ডিমগুলো নিষিক্ত হয় না। এতে নতুন করে লার্ভা জন্মায় না এবং প্রাকৃতিকভাবে মাছির সংখ্যা কমে যায়।”
গবেষণার প্রকল্পের পরিচালক ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন জানান, এই মেশিন ল্যাবে স্থাপন করা হয় ২০১৮ সালে। সোনাদিয়া দ্বীপে ২০০১ থেকে বন্ধ্যা মাছি ছেড়ে গবেষণা শুরু হয়েছিল। পরে সেখানে ২০২১ সালে ৫ লাখ বন্ধ্যা মাছি ছেড়ে বাণিজ্যিকভাবে বিষমুক্ত শুঁটকি উৎপাদনের উদ্বোধন করা হয়। এরপর তিন বছরে সোনাদিয়ায় অন্তত ৯০ লাখ বন্ধ্যা মাছি ছাড়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই প্রকল্প দ্বারা শুঁটকি উৎপাদন সম্পূর্ণ নিরাপদ হয়েছে।
