দীপেন দেওয়ানের হঠাৎ পদত্যাগ বিষয়টি সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে
প র বত য মন ত র – পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের ঘটনা দেশের সারাংশে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। ঈদের ছুটির পর সরকারি কাজ শুরু হওয়ার প্রথম দিনে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং তার মুহূর্তেই সেটি গ্রহণ করা হয়। পরে দ্বিতীয় প্রহরে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এই দ্রুত ঘটনার কারণে সবার মনে প্রশ্ন জাগে। মন্ত্রী কী কারণে পদত্যাগ করেন? স্বাস্থ্যগত কারণে ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে কি বা রাজনৈতিক চাপে তাঁকে বাধ্য করা হয়েছে কি? এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য আসেনি।
স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ছাড়া বিতর্ক বাড়ছে
স্বাস্থ্য কারণে পদত্যাগের ঘটনা সাধারণত সূচনা করে না। কারণ ছাড়া হঠাৎ করে পদত্যাগ হয়েছে কিনা তা বিশ্লেষণের পরিচ্ছন্নতা ছাড়া এখনও অনিশ্চিত। মন্ত্রীর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর মনে বিপর্যয় হলে এই কার্যকলাপ সম্পন্ন হতে পারে। অথবা তিনি কী করে নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে আসছেন সে বিষয়ে অনেকে সন্দেহ করছেন।
পার্বত্য চুক্তির বিপর্যয় এবং আশাভঙ্গ
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী শান্তি ও ভূমির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তি বাস্তবায়ন করা হয়নি। দীর্ঘ দশক ধরে তৈরি হওয়া আশাভঙ্গের রাজনৈতিক আবহ এখনও পার্বত্য অঞ্চলে বিরাজমান। মন্ত্রণালয় গঠন করেছিল বিশেষ করে আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদ স্থাপনের মধ্য দিয়ে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল বটে, কিন্তু কোনো ফল আসেনি। উৎসবের মতো আয়োজন করা হয়েছিল, কিন্তু উপেক্ষিত বিষয়গুলো সমাধানের ব্যবস্থা ছিল না।
প্রবাদে আছে, ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়।
যেহেতু চুক্তি পার্বত্যবাসীদের আশার ভাবনা তৈরি করেছিল, তারা এখনও আতঙ্কিত। অনেকে বলছেন, পাহাড়ের মানুষ স্থিতাবস্থার ক্ষুদ্র পরিবর্তনে এতটা উদ্বিগ্ন হয়েছে যে তাদের বিশ্বাস করে না যে কী পরিকল্পনা পালন করা হচ্ছে। চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা সহ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ এখন আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
