জাফর জাতাল্লি: কবিতা লেখার দায়ে মৃত্যুদণ্ডিত কবি
জ ফর জ ত ল ল – দিল্লির কবিদের অপরিসীম অবদান রয়েছে ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণ থেকে উর্দু ভাষার উন্নয়নে। এঁদের অনেকে ঐতিহাসিক প্রসিদ্ধি পেয়েছেন, তবে অনেকে অজানা থেকে গেছেন। মোগল সাম্রাজ্যের ধ্বংস যুগে জাফর জাতাল্লি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবে বাকিরা তাঁকে প্রধানত উপেক্ষা করেছে মুষ্টিমেয় ভাষাবিদ ও ইতিহাসবিদ বাদে।
তাঁর কবিতার স্বরূপ এমন যে এ কবিতা বিপ্লবী চরিত্রে পরিচিত নয়, বরং পীড়াদায়ক ও মানসিক আঘাত সৃষ্টি করতে পারে। কবিতার প্রাথমিক ধারা হিসেবে গণ্য হয় একটি বিপ্লবী ধারা যার নাম ছিল ‘শের-আশোবর’ (দুর্ভাগ্য কবিতা)। এ ধারার বিপ্লবী পরিচয় অবশ্য বর্তমানে বিখ্যাত হওয়াটা অপরিহার্য ছিল না।
মোগল শাসনের ক্ষয়ক্ষত বর্ণনা
আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মোগল সম্রাটদের প্রতিটি ব্যর্থতা ও পতন তাঁর কবিতায় উল্লেখ করা হয়েছে। জাতাল্লি তাঁর সময়ে দুর্ভাগ্য ধারার কবিতার চরিত্রে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেছেন মোগল সাম্রাজ্যের আধুনিক অবস্থা। তাঁর কবিতার আক্রমণ যথেষ্ট তীব্র ছিল। এ কারণে তিনি অবশ্য তাঁর কবিতায় আওরঙ্গজেবের সামান্য প্রশংসা ও বিপর্যয়ের আক্ষেপ ব্যবহার করেছেন।
জব গুস্সা হদ্ পার কর জায়ে তো আদমি গালিয়াঁ হি বকতা হ্যায়।
বাংলায়: রাগ যখন সীমা ছাড়িয়ে যায় তখন লোকে তো শুধু গালাগালিই দেয়। —(অনুবাদ: লেখক)
মৃত্যুদণ্ড ও কবিতার চরিত্রের সমালোচনা
ফররুখসিয়ার বাদশাহ পদে আসীন হওয়ার সময় তাঁর নতুন মুদ্রা সম্পর্কে জাতাল্লি সমালোচনা করেছেন। একটি পরিচিত সিক্কা টাকার উপর খোদার কবিতা লেখার প্রচলিত রীতি ছিল। কিন্তু জাতাল্লি তার কবিতায় এ রীতি ক্রুদ্ধ ভাবে ব্যঙ্গ করেছেন। সিক্কায়ে জাদ বার্গান্দুম ওয়া মথ ওয়া মাতার বাদশাহ হ্যায় তসমা কাশ ফররুখসিয়ার।
বাংলায়: চালু করা মুদ্রাগুলো ডাল আর মটরদানার, কারণ জুতোর ফিতে দিয়ে মানুষ মারেন বাদশাহ ফররুখসিয়ার। —(অনুবাদ: লেখক)
জাতাল্লির এ ব্যঙ্গবিদ্রূপ পঙ্ক্তি পড়ে ফররুখসিয়ার আদেশ দেন তাঁকে গলায় জুতার ফিতে জড়িয়ে হত্যা করতে। তাঁর কবিতার প্রতিক্রিয়া বুঝতে হলে এ সময়ের সমাজ পরিচয় জানা প্রয়োজন। সমাজের শিক্ষিত অভিজাতরা এখনও ফারসি ভাষাকে প্রধান স্থান দিয়েছে।
জাতাল্লির বিশেষ করে একটি সামাজিক ও ভাষাগত পরিবেশে তিনি অ
