যৌন হয়রানি: জনমানসের আবেগ বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়
প্রতিষ্ঠান এবং মানসিক প্রতিক্রিয়া
য ন হয়র ন – শিক্ষার প্রতিষ্ঠান, সংবাদমাধ্যম, কারখানা বা গণপরিবহন সহ বিভিন্ন স্থানে যৌন হয়রানির খবর পেলে বাংলাদেশ কী করে? জনমানসের আবেগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক দায় দুই মেরুতে বিভক্ত হয়ে আছে। একদিকে অভিযোগ উঠলে তথ্যপ্রমাণের অপেক্ষা ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা অভিযুক্তের প্রতি ব্যক্তিগত সমর্থন বা প্রতিক্রিয়া বৃদ্ধি পায়। এতে জনমানসের আবেগ জনিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর প্রবণতা দেখা দেয়।
অন্যদিকে অভিযোগ যখন প্রমাণিত হয় না, তখন অভিযুক্ত কেবল ছাড়পত্র পায় এবং ভুক্তভোগীর প্রতি ধিক্কার দেয়া হয়। এই দুই মেরুর মাঝখানে অনলাইন মব জাস্টিস একটি বিপজ্জনক প্রবণতা হিসেবে চিহ্নিত হয়। অভিযোগ উঠলে সংগঠিতভাবে কাউকে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা, হুমকি দেওয়া বা পরিবার পর্যন্ত আক্রমণ ঘটানো হয়। এই প্রবণতা নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলে না ভুক্তভোগীদের জন্য, তথাপি অভিযুক্তের ক্ষেত্রেও ন্যায্য প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে আসে।
এ এফ এম শহিদুর রহমান বলেন, “কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির মতো অভিযোগকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার কিংবা ব্যক্তির ওপর দায় বরণ করা হয় না কর্মক্ষেত্রে অভিযোগের সংকট সেফগার্ডিংকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।”
প্রতিষ্ঠানের অপরাধ এবং প্রমাণ দুর্বলতা
বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির প্রতিরোধে হাইকোর্ট ২০০৯ সালে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। অভিযোগ কমিটি গঠন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং প্রতিকার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান হয় এটি জানে না, নয়তো মানে না। কোথাও কমিটি নেই, কোথাও আছে কিন্তু অকার্যকর, কোথাও সদস্যরা প্রশিক্ষিত নন এবং কোথাও অভিযোগকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না।
আইনগত অস্পষ্টতা ও বাস্তবায়নের দুর্বলতা সহ এই প্রতিষ্ঠানগুলো যৌন হয়রানির প্রতি দায় এড়িয়ে যেতে পারে। ফলে দশকের পর দশক পার হয়ে যায়, কিন্তু কাঠামোগত পরিবর্তন হয় কম। যৌন হয়রানি কী তা জানতে হবে এবং প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সেফগার্ডিংকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
ব্যক্তিগত অভিযোগ এবং অনুমান
একসময় আমি সরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতাম। সেখানে এক সহকর্মীর বিরুদ্ধে আমি যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলাম। তিনি কর্মক্ষেত্রে আমার পথ আগলে দাঁড়াতেন, আমার রিকশা থামিয়ে উঠে পড়তেন এব
