হেনরি নোভাক হত্যার রায় ঘিরে উত্তাল যুক্তরাজ্য, পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভ
হ নর ন ভ ক হত য – ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর রাতে ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটনের বেলমন্ট রোডের পোর্টসউড এলাকায় ঘটে যায় হেনরি নোভাকের হত্যার ঘটনা। ঘটনার পর জাতীয় মানুষের মধ্যে তীব্র বিতর্ক চালু হয় পুলিশি আচরণ, বর্ণবাদ, আইন প্রয়োগ এবং তথাকথিত দ্বৈত পুলিশিং নীতি নিয়ে। ডানপন্থী কর্মীদের নেতৃত্বে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং সেই দিন থেকে সম্পূর্ণ যুক্তরাজ্যে চলছে বিতর্ক।
হত্যার পর পুলিশের ক্রিয়া
হত্যাকারী ভিকরাম ডিগওয়া ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পুলিশকে জানান যে তিনি বর্ণবাদী হামলার শিকার। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ গুরুতর আহত হেনরি নোভাককে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করে। এরপর প্রকাশিত বডিক্যাম ভিডিওতে দেখা যায় হেনরি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে বলছেন, “আমি ছুরিকাহত হয়েছি” এবং “আমি শ্বাস নিতে পারছি না”। কিন্তু একজন পুলিশ কর্মকর্তা তাঁকে বলেন, “আমি মনে করি না তুমি ছুরিকাহত হয়েছ।” তখন হত্যাপথে হেনরির হাতকড়া পরানো হয়। কিছুক্ষণ পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
“তিনি অসুস্থ বোধ করেছেন এবং পুলিশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।”
বিডিওটি প্রকাশের পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন গোষ্ঠী তুলে দেখেন যদি ডিগওয়া বর্ণবাদী হামলার অভিযোগ না করতেন, তাহলে পুলিশ কি একইভাবে আচরণ করত? এ বিষয়ে প্রসিকিউশন ডিগওয়ার বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণ করে। আদালত রায় দেন যে ঘটনাটি আত্মরক্ষার কারণ হয়নি, বরং একটি হত্যাকাণ্ড।
আদালতের রায় ও বিতর্ক
২৮ মে সাউদাম্পটন ক্রাউন কোর্ট ডিগওয়াকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয় এবং তাঁকে কমপক্ষে ২১ বছর কারাগারে থাকতে হবে। বিচারক আদালতে বলেন যে ডিগওয়া শিখ ধর্মীয় ছুরি (কিরপান) ব্যবহার করেছিলেন, যা শিখ সম্প্রদায়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে। তবে ডিগওয়া দাবি করেন যে এটি তাঁর আত্মরক্ষার কারণ হয়েছিল।
বিক্ষোভ এবং জবাবদিহি দাবি
রায় ঘোষণার পর সাউদাম্পটনে প্রায় এক হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। প্রথমে শান্তিপূর্ণ ছিল তবে সহিংসতা ছড়ায়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, বোতল, চেয়ার ও ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করে। এতে ১১ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও একটি পুলিশ কুকুর আহত হয়। সংঘর্ষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অভিবাসনবিরোধী ও জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীর সদস্যদের উপস্থিতি ছিল। রিফর্ম ইউকে
