কোরবানির শিক্ষা সারা বছর যেভাবে ধরে রাখবেন
শিক্ষা কোরবানির প্রকৃত মূল্য
ক রব ন র শ ক ষ – মানবজাতির ইতিহাসে দুটি ঘটনা কোরবানি বিষয়ে গভীর শিক্ষা প্রদান করেছে। প্রথমটি হাবিল ও কাবিলের কোরবানি সম্পর্কে, দ্বিতীয়টি নবী ইব্রাহিম ও তাঁর পুত্র নবী ইসমাইল (আ.)-এর আত্মত্যাগের কাহিনী। এগুলো দুটি ইতিহাস দিয়ে আমাদের জন্য সত্য ও ঈমানের মৌলিক উপাদান উপস্থাপন করেছে।
“যখন তারা উভয়েই একটি করে কোরবানি পেশ করেছিল, তাদের একজনের কোরবানি কবুল করা হলো আর অন্যজনেরটি কবুল করা হলো না। তখন সে বলল, ‘আমি অবশ্যই তোমাকে হত্যা করব।’ জবাবে অপরজন বলল, ‘আল্লাহ তো শুধু পরহেজগারদের (কোরবানিই) কবুল করেন।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত: ২৭)”
পশুর মূল্য বা আকার বিষয়ে আল্লাহর প্রিয়তা নয়, তাঁর নিষ্ঠার বিশুদ্ধতাই প্রধান। হাবিলের সময় বাহ্যিক আড়ম্বর ছাড়া আন্তরিকতার কারণে কোরবানি গ্রহণযোগ্য হয়েছিল, কিন্তু কাবিলের মূল্যবান শস্য অন্যায় সার্থকতার প্রতীক হিসাবে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। পিতাকে সত্য ও ন্যায়ের পথে ডেকেছেন নবী ইব্রাহিম (আ.)। কোরবানির মূল চেতনা অনুগত্য ও ঈমানের অক্ষয় মানসিকতার প্রতিফলন।
আত্মত্যাগের মর্যাদা
নবী ইব্রাহিম (আ.) তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করার আদেশ পেয়ে নিষ্ঠার আধারে স্থির থাকেন। তাঁর দ্বারা জানানো হয়েছিল যে, আল্লাহর আদেশ পালন করাই মুক্তির পথ। ইসমাইল (আ.) স্বপ্নে যে ব্যক্তি নিয়ত সত্য করেছিলেন, তিনি পিতাকে মূল্যবান কাজে সহায়তা করেন।
“আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে তা-ই করুন, ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন।” (সুরা সাফ্ফাত, আয়াত: ১০২)
কোরবানি একটি নির্দিষ্ট দিনের ইবাদত হলেও তার মূল প্রকৃতি সারা জীবনের জন্য। অহংকার ও লোভ থেকে মুক্তি পাওয়া আমাদের জন্য নিষ্ঠার প্রতিফলন। নিজের প্রবৃত্তি ও হক ছাড়া আল্লাহর আদেশ পালন করা চেষ্টা করতে হবে।
সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কল্যাণে অবিচল আনুগত্যের চেতনা জীবনের সকল ক্ষেত্রে নির্মিত হতে হবে। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ত্যাগ করার প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা আছে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আরও মানসিকতার প্রকৃত বিস্তার হতে পারে।
এখনও আমরা নিজেদের মধ্যে ঈদের দিন ছাড়া কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি। হারাম থেকে দূরে থাকা এবং সত্যের পথে অবিচল থাকা কোরবানির মূল উদ্দেশ্য। সারা বছর ত্যাগের চেতনা জীবনে অক্ষয় হতে হবে যেন আমাদের আত্মত্যাগ মানসিকতার বিষয়ে ধরে রাখা সম্ভব।
