বেজার কাছে কুষ্টিয়া চিনিকল হস্তান্তরে গতি নেই
ব জ র ক ছ ক ষ – পূর্ববর্তী সরকার লোকসানের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া কুষ্টিয়া চিনিকলকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজার) অধীনে হস্তান্তর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। তবে সে পরিকল্পনার কার্যনীতি বাস্তবায়নে এখনো কোনো প্রকার গতি দেখা যাচ্ছে না। উল্লেখযোগ্য জটিলতার কারণে সম্পদমূল্য নির্ধারণে ও ঋণ মোকুসল করার ব্যবস্থা ছাড়া কুষ্টিয়া চিনিকল হস্তান্তরের প্রক্রিয়া অটো হয়ে আছে।
গত ২৬ জানুয়ারি বেজার পরিচালনা পর্ষদের নবম সভায় কুষ্টিয়া চিনিকলকে বেজার অধীনে নিয়ে আসা এবং এটিকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং শিল্প উপদেষ্টা। সভা শেষে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, প্রায় ২০০ একরের বেশি জায়গায় চিনিকলটিতে ইতিমধ্যে পানি, বিদ্যুৎ এবং সড়ক সুবিধা রয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের প্রাথমিক সমস্যাগুলো আগে থেকে সমাধান করা হয়েছে বলে জানান হয়।
“কুষ্টিয়ার চিনিকলের বিষয়ে আমাদের আর কোনো বক্তব্য নেই। এ বিষয়ে যখন সিদ্ধান্ত হয় তখন আমাদের কাছে কোনো মতামত চায়নি। আর কারখানা যেহেতু বন্ধ এবং লোকসান বাড়ছে সেহেতু আমরা এ বিষয়ে আর আপত্তি করিনি,” বলেন মো. ওবায়দুর রহমান, শিল্পসচিব।
কুষ্টিয়া চিনিকল প্রতিষ্ঠার পর তিন দশকের বেশি সময় লাভজনক ছিল। কিন্তু ২০০১ সালে প্রথম প্রতিষ্ঠানটি লোকসানে পড়ে। পরবর্তী বছরগুলোতে তা আর লাভে ফিরতে পারেনি। প্রতিবছর দেখা যায় ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতিতে চলছে। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পুঞ্জীভূত ক্ষতিতে পৌঁছেছে ৭৩৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
বিএসএফআইসি সূত্রে জানান, কুষ্টিয়া চিনিকলের সরকারি ও অন্যান্য উৎস থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। কৃষিপ্রক্রিয়াজাত ও ক্যাশ ক্রেডিট সহ বিভিন্ন ঋণের পরিমাণ ৩০৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। বছরের পর বছর ঋণ কিস্তি পরিশোধ করছে না বেজার। ফলে পুঞ্জীভূত দেনা বাড়ছে। এ নিয়ে কোনো বিস্তারিত নথিপত্রও নেই।
বেজার কর্মকর্তারা প্রথম আলোকে জানান, পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের পর চিনিকল বেজারের অধীনে আনার কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নামজারি ও মাস্টারপ্ল্যান করতে হবে। তবে জমি মূল্য ও ঋণের দায় নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হওয়ায় কাজ এগোচ্ছে না।
গ
