বিলাসপুরে আবার ককটেল বিস্ফোরণ, গর্ত গঠনে গ্রামের প্রতিক্রিয়া
জ জ র র ব ল সপ – বেলা ১১টার দিকে জাজিরার বিলাসপুর ইউনিয়নে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। উপজেলার জানখারকান্দি গ্রামের কবরস্থানের পাশে এই ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে বিকেলে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ এবং পুলিশ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্থানে উপস্থিত হন। পুলিশ জানিয়েছে যে বিস্ফোরণে জানমালের ক্ষতি হয়নি।
গত ৮ জানুয়ারি ককটেল তৈরি করার সময় বিলাসপুরে বিস্ফোরণে তিন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছেন। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় পুলিশ ও যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে ককটেল তৈরির কারখানার সন্ধান পায়। সেসব স্থান থেকে ককটেল ও তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
“বেলা ১১টার দিকে ফসলি জমিতে কাজ করছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পাই। ধোঁয়া উড়ছে দেখে ছুটি যাই। কবরস্থানের পাশে বাগানে মাটি ছড়িয়ে বড় গর্ত গঠন হয়েছে। গ্রামের অনেক মানুষ সেখানে ছুটে আসে। পুলিশকে খবর দেয়া হয়।”
বিলাসপুর ইউনিয়নটি পদ্মা নদীর তীরঘেঁষা এলাকা। গ্রামবাসীদের মতে এখানে ৪০ বছর ধরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের সংঘর্ষ চলছে। এসব সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা দেখা দেয়। বিলাসপুরে বিভিন্ন স্থানে ককটেল তৈরি করে বিক্রি করেন বিভিন্ন পক্ষের লোকজন।
গত শুক্রবার চরধুপুর চরকান্দি এলাকায় একটি ফসলি জমিতে ককটেল পায় ১০ বছর বয়সী এক শিশু। তার হাতে নেওয়ার পর বিস্ফোরণ ঘটে। ওই ঘটনায় শামসুল মাতবরের ছেলে রাহাতের ডান কবজি বিচ্ছিন্ন হয়। তিনি ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
গত ছয় মাসে জাজিরার অন্তত ১৫টি স্থানে সংঘর্ষের সময় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ বিলাসপুরে সিসি ক্যামেরা বসানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, বিলাসপুরে আর কোনো ককটেল বিস্ফোরিত না হয় তার জন্য পুলিশকে নজরদারি বাড়ানো হবে। গোয়েন্দারা তদন্ত করবে এবং শিগগির সিসি ক্যামেরা বসানো শুরু হবে।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালেহ আহম্মেদ বলেন, বিলাসপুরে একটি নির্জন স্থানে বিকট শব্দে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটেছে। সম্ভবত মাটির নিচে কোনো পক্ষ ককটেল রেখেছিল। পুলিশ সেখান থেকে বিস্ফোরণের আলামত উদ্ধার করেছে। ঘটনার জন্য দোষী খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে।
