মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া নিয়ে অপেক্ষায়, পাইকারদের দেখা নেই
ম স ম ব যবস য় র – শম্ভুগঞ্জ হাটে চামড়া বিক্রির জন্য আসেন রামলাল রবিদাস, যেখানে তিনি হালুয়াঘাট থেকে ৪৬টি গরুর চামড়া নিয়েছেন। কিন্তু কোনো পাইকার কিংবা ট্যানারি প্রতিনিধি না থাকায় চামড়াগুলি কাগজের স্তূপে ঢেকে চলে যাচ্ছিলেন।
‘আজ বড় বাজার হওয়ার আশা ছিল, কিন্তু কোন ব্যবসায়ী আসেনি এবং মাল বিক্রি করতে পারছেন না। ব্যাপারী থাকলে তো মাল বেচতাম। চামড়া নিয়া আমরা এখন বেকায়দায় আছি।’
বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা চামড়াগুলি বাজারে থাকলেও বিক্রি না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। কোরবানির পর এ হাটে বিভাগের ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার কিছু এলাকা থেকে চামড়া নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। ঢাকার ট্যানারি মালিকদের দ্বারা চামড়া কেনার জন্য এ হাট বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে।
বাজারে কেনার জন্য মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অপেক্ষায় আছেন, কিন্তু পাইকার ও ট্যানারি প্রতিনিধি দেখা নেই। সাপ্তাহিক চামড়ার হাটে আজ শনিবার সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত অবস্থান করে দেখা গেছে যে চামড়াগুলি বিক্রি হচ্ছে না। এ বছর ঢাকার ভেতরে গরুর চামড়া দাম প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫৭ থেকে ৬২ টাকার পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে।
‘প্রতিবছর লাভের আশায় চামড়া কিনি, কিন্তু লস করতে হয়। গত বছরও গরু বেইচ্চা লস ভরছি। চামড়ার এই অবস্থা কেরে, চামড়া কী বিদেশ নেয় না। বাজারে আয়াই ব্যাপারীরা জোট কইরা ফেলায় আমারে চামড়ার দামই কয় না।’
অন্য এক ব্যবসায়ী হিসেবে সুগ্রীম রবিদাস বলেন, ‘৪০টা চামড়া কিনলেও বিক্রির জন্য ১৬টা চামড়া এনেছেন। একেকটা চামড়ায় লবণ গেছে ১০-১২ টাকার। বাকি চামড়া কেটে কুকুরকে খাইয়েছেন। বাজারে যেগুলো এনেছেন, সেগুলোর দামও কেউ বলে না।’
স্থানীয় পাইকার মো. আবদুল কাদির বলেন, ‘আমি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে ব্যবসা করি। সরকার দাম নির্ধারণ করে দিলেও আমরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাই না। ট্যানারি মালিকদের যাতে এখানে চামড়া কেনা হয়, সে জন্য আমরা আহ্বান জানিয়েছি। প্রতিবছর দাম লস করতে করতে সব সম্বল শেষ হয়ে পথে বসার উপক্রম।’
হাটের ইজারাদারে
