বর্ণবাদের ছায়ায় খুন হয়ে যাওয়া কবি
বর ণব দ র ছ য় য় – সেদিন জোহানেসবার্গের রাস্তার ধ্বনি মোলোয়াসের রক্তের হুংকার বহন করছিল। রাস্তায় রাস্তায় প্রতিশোধের ডাকের সাথে মিশে গেছিল সোয়াহিলি রণহুংকার, যা দেশের শাসকদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার অনুরোধ করেছিল।
১৯৮৫ সালের ১৮ অক্টোবর সকালে প্রিটোরিয়া কেন্দ্রীয় কারাগারে মুক্তিযোদ্ধা এবং দুই সন্তানের পিতা বেনজামিন মোলোয়াসের ফাঁসি প্রদানের ঘটনা ঘটে। বেঁচে থাকলে তিনি ৭১ বছর পা দিতেন। কিন্তু সাবেক বর্ণবৈষম্যবাদী সরকার তাঁকে দেশের নিরাপত্তা বিষয়ে সম্পূর্ণ অবিশ্বাস করে তাঁকে তিরিশ বছরের ভরা যৌবনেই এই হত্যাকাণ্ডের শিকারি করে।
মোলোয়াসের মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বের স্বাধীন প্রতিবাদ উপস্থিত হয়। জাতিসংংঘ, কমনওয়েলথ ও যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাঁর মৃত্যুদণ্ড রদ করার আবেদন জানায়। তাঁর পুনঃশুনানির আবেদন গ্রহণ করা হয় না। আদালত ও বোথা সরকার সে আবেদন প্রত্যাখ্যান করে।
গ্রেপ্তার ও বিচার
১৯৮২ সালে মোলোয়াসকে কৃষ্ণাঙ্গ পুলিশ হত্যার দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়। দুই বছরের বেশি সময় ধরে তাঁর অপরাধ প্রমাণিত হয়নি, কিন্তু বর্ণবাদী শাসনের বিরুদ্ধে তাঁকে ফাঁসির রায় দেওয়া হয়। বিচারের সময় তাঁর আইনজীবী তাঁর অপরাধহীনতা প্রমাণের জন্য তাঁকে আবেদন করেন। কিন্তু সে আবেদন বোথা সরকার ও আদালত অগ্রাহ্য করে।
মোলোয়াসের মৃত্যুদণ্ড ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা গুলোর একটি। আমরা সুস্পষ্ট ভাষায় আমাদের মতামত জানিয়ে বলেছি, এ মামলার ক্ষেত্রে সাধারণ ক্ষমাই ন্যায়সঙ্গত হবে।
ফাঁসির ঠিক আগে লেখা কবিতায় মোলোয়াস বলেছেন: “আমি যা হয়েছি, তাতে আমি গর্বিত… অত্যাচারের ঝড়ের পর আসবে আমার রক্তের বৃষ্টি। আমি গর্বিত, আমার জীবন দিতে পেরে আমার এই একাকী একটি জীবন।”
বিশ্বের প্রতিবাদ
মোলোয়াসের হত্যাকাণ্ড ছিল বর্ণবাদী বোথা সরকারের পতন ত্বরান্বিত করে। আফ্রিকান জাতীয় কংগ্রেসের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়। তাঁর মুক্তি সারা বিশ্বে এক নতুন ভরবেগ সৃষ্টি করে।
একটি মুদ্রা ‘রান্ড’-এর মান তলানিতে গিয়ে ঠেকে। দক্ষিণ আফ্রিকা পরিণত হয় মুক্ত পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে। সেদিন সারা বিশ্বের বিশাল প্রতিবাদ তীব্র হয়।
মোলোয়াস পেশাগতভাবে মূলত বিছানার তোশক-বালিশ, সোফার গদি, কুশন ইত্যাদি নির্মাতা ছিলেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত আফ্রিকান জাতীয় কংগ্রেসের গোপন সমর্থক ছিলেন।
আফ্রিকা মহাদেশের অন্যান্য দেশসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর কঠোর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে।
