ফারুক পিটার: নিজে করে দক্ষ কারিগর হয়েছেন দুর্দশার মাঝে
জ ল ন ক র সদস য – মাছ ধরা ট্রলারের ইঞ্জিন চালু করা বা যান্ত্রিক সমস্যা সমাধানে মিস্ত্রি পদের গুরুত্ব বেশি। আশির দশকে ভোলার লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নে ট্রলারের মালিক আবদুল খালেক হঠাৎ নিয়মিত মিস্ত্রি ছুটিতে চলে যান। ইঞ্জিন চালু করার মতো কেউ ছিলেন না। সেই সময় জাপানি ইঞ্জিন নতুন যুক্ত হচ্ছিল, চীনা ইঞ্জিন বাজারে আসেনি। আশা করে চালু করতে পারল মাত্র ১৫ বছর বয়সী কিশোর মো. ফারুক। সে থেকে শুরু হয় তাঁর মিস্ত্রি প্রতিষ্ঠা।
আল্লাহর রহমতে ওস্তাদ ছাড়াই নিজে শিখেছেন ফারুক। ইলেকট্রনিকস কাজে দক্ষ হওয়ার পর জেলেনৌকার কাজ ছেড়ে দেন। লালমোহনের মঙ্গল শিকদার বাজারে নিজে মাইক সার্ভিস ব্যবসা শুরু করেন। এখন তাঁর অনেক শিষ্য ট্রলার ও ট্রাক্টরের ইঞ্জিন মেরামত করছেন।
দুঃখ থেকে নেই স্বাধীনতা
ফারুকের জীবন ছিল সংগ্রামের। পঞ্চম শ্রেণির পর অভাবের কারণে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। ধলীগৌরনগরের কামরহাওলা গ্রামে তাঁদের বড় বাড়ি ও জমিজমা ছিল। কিন্তু তিন দফা নদীভাঙনে সব হারিয়ে পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ে। একসময় তাঁর বাবা সেকেন্দার আলী মাঝিকে নৌকাটিও বিক্রি করতে হয়।
“আমার ছেলে এখন আমার থেকেও দক্ষ কারিগর। সুযোগ পেলে ছোট এই ব্যবসা আরও বড় করতে চাই। তারপরও আল্লাহর রহমতে ভালোই আছি।”
১৯৯৭ সালে মেঘনা নদীর তীরে বাত্তিরখাল মাছঘাটে মাইক, ক্যাসেট প্লেয়ার ও ব্যাটারি ভাড়ার ব্যবসা শুরু করেন তিনি। বর্ষায় জেলেরা নদীতে জাল পেতে গান শুনতেন। একটি ব্যাটারি ভাড়া দিয়েই দিনে ৫০ টাকা আয় হতো। পরে বেঙ্গল টাইগার ব্যাটারি হাউস থেকে ব্যাটারি তৈরির কাজ শিখে নিজে ব্যাটারি বানাতে শুরু করেন।
তাঁর তৈরি ব্যাটারির মান এত ভালো ছিল যে প্রতিষ্ঠানের মালিক ফিরোজ পাটওয়ারী তাঁকে বিশেষভাবে সম্মান জানান। বর্তমানে ফারুক ও তাঁর ছেলে এমরান হোসেন সাউন্ড সিস্টেমের যন্ত্রাংশ মেরামত ও নতুন অ্যামপ্লিফায়ার তৈরি করেন।
