কলেজের সেই সিনিয়রের সঙ্গে ৪১ বছর পার
সেই কলেজের দিনগুলি
কল জ র স ই স ন – অনুপম খের জীবনের মূল বিষয়গুলির মধ্যে এখনও কিরণ খেরের সাথে যুক্ত হওয়ার ধারণা না ছিল সে কথা মনে করেন তিনি। বিশ্বাস করতেন না যে তাঁদের জীবন একসঙ্গে চলবে, কিন্তু সম্প্রতি তাঁর বলেন, “জীবনে কিছুই অসম্ভব নয়। আমি কখনো মনে করিইনি যে আমরা প্রেমে পড়ব, বিয়ে করব।”
আজ তাঁদের দাম্পত্য জীবনের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে চার দশকের বেশি সময় বাদ দিয়ে। বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সম্মান এবং সহমর্মিতা তাঁদের সম্পর্কের চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে অনুপম খের মনে করেন।
মুম্বাইয়ে চলে আসার পর
দুজনের প্রথম পরিচয় হয় চাংদীগড়ের থিয়েটার বিভাগে। কিরণ তখন অনুপমের এক বছরের সিনিয়র ছিলেন। তাঁর স্বাভাবিক পরিচিতি ছিল বোনের সঙ্গে ভারতের হয়ে ব্যাডমিন্টন খেলা এবং ইংরেজি নাটকে অভিনয়।
অনুপম খের বলেন, “তিনি ছিলেন একেবারে তারকা। আমি কখনো মনে করিইনি যে তাঁর সঙ্গে আমার জীবনে কিছু ঘটতে পারে।” তবে বলতেন তিনি, “আমরা তাঁর কাছ থেকে ট্যাক্সিভাড়া নিতাম, কিন্তু পরে বাসে করে ফিরতাম, যাতে পুরো সপ্তাহটা চালানো যায়।”
১৯৮৫ সালে বিয়ে হয়েছিল
কিকান্দার খের বা তাঁর প্রথম সংসারের ছেলেকে নিজের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করেছেন অনুপম খের। আর এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, দীর্ঘ দাম্পত্য টিকিয়ে রাখার আসল শক্তি শুধু প্রেম নয়।
“৪০ বছরের বিবাহিত জীবনে সব সময় শুধু ভালোবাসা দিয়ে থাকা সম্ভব নয়। হতাশাও আসে, মনোমালিন্যও হয়। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পারস্পরিক সম্মান।”
সাক্ষাৎকারে এখনও মজার ছলে অনুপম খের বলেন, “কিরণ কখনো এক কাপ চা–ও বানিয়ে খাওয়াননি। কারণ, কিরণ রান্নার কিছুই পারেন না।” তাঁদের সংসারে কখনো নায়ক-নায়িকা ধরনের দূরত্ব ছিল না। “আমাদের বাড়িতে কোনো ফিল্মি আবহ নেই,” বলেন অনুপম।
সেই সম্পর্কের গুরুত্ব
তবে এত বছরের সম্পর্কের সারমর্ম কী তিনি বলেন, “অবিশ্বাস্য রকমের সহমর্মিতা, পারস্পরিক সম্মান, দয়া এবং বন্ধুত্ব। শেষ পর্যন্ত এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
