বিমানে ভ্রমণ
ভ ল থ ক হ লস থ – তারা কলকাতায় ভ্রমণে যাচ্ছেন। কাওসার হাবিব (৩৫) এবং তার স্ত্রী তামান্না (৩২)। ওদের পরিকল্পনা ছিল রথ দেখা এবং কলার বিক্রি। কাওসার দুঃখে মাথা ঝুঁকিয়ে বসেছিলেন কারণ পেটে চিনচিনে ব্যাথা অনুভব করছিলেন।
কলকাতা বিমানবন্দরে তারা আধঘণ্টার মধ্যে পৌঁছেছিল। স্থানটি খুব সুন্দর করে তৈরি করা হয়েছে বলে তামান্না মনে করছিলেন। তিনি স্যুটকেস আসছে কি না তা অধীর আগ্রহে দেখছিলেন। বেল্টে যে সব স্যুটকেস ঘুরছে, সবগুলো কালো রং। দূর থেকে সেগুলো চিনতে পারছেন না তামান্না।
একটু পরে তামান্না মোবাইল ফোন দেখে চিন্তিত হয়েছিলেন। বড় আপার মেসেজ পড়ে তিনি বলেছিলেন, “অ্যাই, বড় আপা লিখেছেন আমাদের গাড়ি হারিয়ে গেছে।” কাওসার মনে মনে ভাবছিলেন যে তামান্নাকে গাড়ি হারিয়েছে বলা উচিত ছিল না।
স্যুটকেসের ধূনি
বড় আপা তামান্নাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “কাদের বাড়ি ফেরেনি?” কাওসার সারোয়ার ভাইয়ের পরিচিত সাংবাদিক একটি মেসেজ পাঠান কাওসার নামে এক মন্ত্রীর নাম গোল করে দিয়েছিলেন। কাওসারের গাড়ি নেই বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
“কাওসার সাহেবের মন্ত্রিত্ব শেষ।”
সাংবাদিক জানেন যে কাওসার হাবিব একজন মন্ত্রী নয়। তিনি ভুলে যান যে কাওসারের গাড়ি নেই বলে ড্রাইভার কাদের নাম করে সে মনে করছেন কাওসার সাহেব মন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন। ফলে তাঁর বুকে বল ফিরে পেতে লাগল মন্ত্রী।
গাড়ি নাম নিয়ে মামলা
কাওসার হাবিব এপিএস কল করেছিলেন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করতে। তিনি মনে করেছিলেন যে সাংবাদিক তাঁর গাড়ি নাম ভুলে দিয়েছে। মামলা ৫৭ ধারায় করা হয়। সাংবাদিক কেডা নাম গোল করে দিয়েছিলেন যেন গাড়ি সেই জায়গায় নেই।
ধানমন্ডি থানার পুলিশ তামান্নার ড্রাইভারকে ফোন করেছিল গাড়ি খুঁজতে। ড্রাইভার বলেছিলেন, “কেডা? খবরদার।” পুলিশ গাড়ি খুঁজে বার করতে চেয়েছিল। এমনকি কাওসারের বাথরুম নিয়ে চিন্তা করেছিলেন যে তাঁদের কি বাথরুম পরিষ্কার করতে হবে এবং এটা আরো বেশি অসুবিধা হয়েছিল।
