মৌলভীবাজারে ২০০ বছরের পুরোনো চামড়াবাজারে এবারের ঈদের রাত
ম লভ ব জ র ২০০ বছর – বৃহস্পতিবার রাতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের বালিকান্দি চামড়ার বাজার মুখর হয়ে ওঠে। সন্ধ্যার দিকে এই স্থানে ভিড় জমে ওঠে হাজার হাজার মানুষের গোলমালে। অনেকে আধা কিলোমিটার পরিসরে চামড়া তুলে নিয়ে আসেন যে নিয়ে দরদাম করেন, যে নিয়ে ওজন বাড়ান বা ছোট ছোট ব্যাগের সামনে ঘুরে বেড়ান। এটি সাধারণত কোরবানির ঈদে মাংসের বিক্রির ব্যবসা। গরু জবাই করা লোকজন বা বাসাবাড়িতে সংগ্রহ করা মাংস এখানে আসে।
বৃষ্টির মধ্যেও কাজ বাধা পড়ে না, তাই অনেকে ত্রিপল টানিয়ে নিয়েছেন। গাড়িভাড়া দিয়ে এসে ছোট ছোট পুঁটলি চামড়া নিয়ে আসা হয়, আবার কেউ আগে থেকে আড়তদারের সাথে যোগাযোগ করে এসেছেন। রাত নয়টার দিকে বাজারে পা ফেলার জায়গা নেই। এখানে শুধু গোটা এলাকার মানুষের ঘুরতে ঘুরতে কোলাহল হয়।
আমি একসময় চামড়ার ব্যবসা করতেন। কিন্তু ট্যানারির মালিকদের কাছে টাকা আটকে গিয়ে লোকসান হওয়ায় ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন।
বালিকান্দি গ্রামের বাসিন্দা আবদুল মান্নান বলেন, আগে স্থায়ী ব্যবসায়ীদের সংখ্যা ছিল বেশি। এখন সারা বছর চার-পাঁচজন ব্যবসায়ী এখানে কাজ করেন। তিনি আরও বলেন, বাজারটির বয়স প্রায় ২০০ বছর। কাজের ধরন ও দক্ষতা অনুযায়ী শ্রমিকদের মজুরি দেয়া হয় দেড় হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকার পরিমাণে।
সমিতির সভাপতি মো. শওকতের মতে, ট্যানারি মালিক ও আড়তদারদের কাছে তাঁর প্রায় এক কোটি টাকা পাওনা পড়ে আছে। যখন দরদাম নির্ধারণ হয়, তখনই শুরু হয় চামড়ার প্রক্রিয়াজাত করার প্রবল ব্যস্ততা। কেউ চামড়ায় লেগে থাকা মাংস আলাদা করছেন, কেউ তা বিক্রি করছেন।
বাজারে কাঁচা চামড়া পরিষ্কার করা হচ্ছে, অন্য কোথাও লবণ মাখানো হচ্ছে। এসব কাজের জন্য আছে আলাদা শ্রমিক দল। এক রাতে তাঁদের সমস্ত সময় ব্যয় করা হয়। কেউ কেউ বলছেন, চামড়ার দাম তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় কিনেছেন প্রায় দুই হাজার ছোট-বড় চামড়া। তবে এ হাট সুযোগ হিসেবে অনেকে দেখেন না, তাঁরা এটি উৎসব বলে মনে করেন।
