মধু মাখানো কেক
মধ ম খ ন ক ক – জাপানের পরিচিত কথাসাহিত্যিক হারুকি মুরাকামির আফটার দ্য কোয়েক —১৯৯৫ সালে হানশিন ভূমিকম্পের ছায়ায় লেখা ছয়টি গল্পের সংকলন। সংকলনের পঞ্চম গল্প ‘হানি পাই’-এর বাংলা রূপ হলো ‘মধু মাখানো কেক’।
তাই মধুতে মাসাকিচির থাবা ভরে যায়—এত বেশি মধু যে সে একা খেয়েও শেষ করতে পারে না। সে তাই মধুগুলো একটা বালতিতে ভরে নেয়। তারপর তা বিক্রি করার জন্য পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ধীরে ধীরে নিচে নেমে এসে সরাসরি শহরের দিকে যায়।
মাসাকিচি আসলে সর্বকালের সর্বসেরা মধু-ভালুক। সে শহরে আসার সময় একটা বালতি নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। বালতিটি সে পাহাড়ে একটা রাস্তার ধারে দেখে নিয়েছিল—যেন কোনো কাজে লাগতে পারে।
‘ভালুকদের কি বালতি থাকে?’ সালা জিজ্ঞেস করে। ‘ঘটনাচক্রে মাসাকিচির একটা বালতি ছিল,’ জুনপেই ব্যাখ্যা করে বলে।
মাসাকিচির একটি বালতি বিক্রি করার সময় সে শহরের প্রতি কাপ ২০০ ইয়েন দামে বিজ্ঞাপন করে। সাইনবোর্ডটি সে টাঙায়। কিন্তু ভালুক সেটা লিখতে পারে না। তার পাশে বসে থাকা এক বয়স্ক মানুষের কাছে লিখে দেয়।
‘ভালুক কি টাকা গুনতে পারে?’ ‘অবশ্যই পারে। মাসাকিচি যখন ছোট্ট ভালুকছানা ছিল, তখন মানুষের সঙ্গে কিছুদিন বসবাস করেছে। সেই মানুষরা তাকে কথা বলা, টাকা গোনা আর এসব শিখিয়ে দিয়েছে।’
মাসাকিচি খুবই প্রতিভাবান। তাই সাধারণ ভালুকদের থেকে তার অনেকটা আলাদা। সে গল্প বানাতে ভালোবাসে, এবং সে একটু স্পেশাল ভালুক হিসেবে চিহ্নিত। যারা তার মতো এতটা স্পেশাল না, সেসব ভালুকেরা তাকে এড়িয়ে চলে।
‘এড়িয়ে চলে?’ ‘হ্যাঁ, তারা বলে, ‘এই ভালুকের আবার কী হয়েছে, এমন বিশিষ্ট হয়ে ঘোরে কেন?’—এই বলে তার কাছ থেকে দূরে দূরে থাকে।
টঙ্কিচি নামের এক দাঙ্গাবাজ ভালুক মাসাকিচিকে সহ্য করতে পারে না। তার কোনো বন্ধুই নেই বলে জুনপেই জানায়। তাই মানুষজন বলে, ‘সে টাকা গুনতে পারে, কথা বলতে পারে—সব ঠিক আছে, কিন্তু শেষ অবধি তো সে একটা ভালুকই।’
‘মাসাকিচি কি বড়?’ ‘এতটা বড় নয়’ জুনপেই বলে। ‘ভালুক হিসেবে সে একটু ছোটই বলা যায়। সালা, প্রায় তোমার মতোই আকার। আর সে খুবই শান্ত স্বভাবের ছোট্ট ভালুক।’
যখন সে গান শোনে, তখন রক বা পাঙ্ক বা ওই ধরনের কিছু শোনে না। সে একা একা বসে শাস্ত্রীয় সংগীতের সুরকার শুবের্টের গান শুনতে ভালোবাসে। সায়োকো আস্তে করে শুবের্টের ‘ট্রাউট’ গানের সুরটা গুনগুন করে গায়।
‘মাসাকিচি গান শোনে?’ সালা জিজ্ঞেস করে—‘তার কি সিডি প্লেয়ার বা এ রকম কিছু আছে?’
