বইঠা হাতে মেঘনায় ২৫ বছর, নদীই এখন তাসলিমার ঠিকানা
বইঠ হ ত ম ঘন য় ২৫ – ২০০১ সালে কোদালপুর ইউনিয়ন পরিষদ হাজীপাড়া এলাকায় খেয়াঘাট তৈরি করে। এখন তাসলিমা বেগম সেই স্থানে নৌকা চালানোর দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি নৌকার সাহায্যে মানুষ ও কৃষিপণ্য পরিবহন করে দিন-রাত কাজ করেন। কোদালপুর ইউনিয়নের মূলত কৃষিপ্রধান অঞ্চল। সেখানে বেশিরভাগ বাসিন্দা কৃষিকাজ এবং মাছ ধরার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন।
তাসলিমা বেগম তাঁর স্বামী নাসির সরদারের মৃত্যুর পর সম্পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করেন না। ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে নদীর দুই পারে পরিবহন করতে হয় তাঁকে। এই কাজের সম্পূর্ণ ব্যবস্থা স্বামী তৈরি করেছিলেন। তাঁর স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তাসলিমা তাঁর বইঠা হাতে নৌকা চালান শুরু করেন।
নদী পার হওয়া বিনিময়ে গ্রামের মানুষ তাসলিমাকে বিভিন্ন ফসল দান করে। এগুলো বিক্রি করে সংসারের খরচ চালান তিনি। তবে নৌকা চালানোর আয় ছাড়া স্বামীর রেখে যাওয়া নৌকার বাবদ কোনো টাকা পান না। তাঁর জীবন বয়োজ্যেষ্ঠ নারী হয়েও নদীর দুই পারে নৌকা চালাচ্ছেন।
তাসলিমার ছেলে আলী আকবর পাঁচ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে পঙ্গু হয়ে যান। ছেলের চিকিৎসা করার জন্য তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েন। এখন ছেলে ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকা চালাচ্ছেন।
‘শিশু বয়সে আমাদের বাবা মারা যাওয়ার পর মা আমাদের ছেড়ে যাননি। তিনি নৌকা নিয়ে নদীতে নেমে পড়েন। দিন-রাত পরিশ্রম করে আয় করতেন যা দিয়ে আমাদের জীবন চলত। আমরা সংসারের চাপে মাকে নৌকা চালাতে হচ্ছে,’ বলেন তাসলিমার মেয়ে বিবি সাহেরা।
‘স্বামীর মৃত্যুর পর ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় পড়ি। তখন মাথায় আসে স্বামীর রেখে যাওয়া নৌকাই আমার বেঁচে থাকার অবলম্বন হবে। ২৫ বছর ধরে নদীর একূল থেকে ওকূলে নৌকা চালানো দিয়ে জীবন ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। সরকারি সহায়তা বলতে বিধবা ভাতা পাই। বড় আশা ছিল সন্তানদের বসবাসের জন্�
