মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের আহ্বান জানালেন ইমাম
আর ফ ত র খ তব য় – আরাফাতের ময়দানে তীব্র গরমের কারণে এদিন তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতেও লাখো হাজি সমবেত হয়ে পবিত্র হজের খুতবা শুনতে উপস্থিত হন। গতকাল মঙ্গলবার মসজিদে নামিরা থেকে ইমাম শেখ আলী আল-হুদাইফি এই খুতবা প্রদান করেন।
খুতবায় ইমাম মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। সমাপন করার পর তিনি আবেগঘন মোনাজাত পরিচালনা করেন। এ সময় তিনি হাজিদের হজ কবুল করার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন। তিনি আরও আবেগপূর্ণ কথা বলেন, “হে আল্লাহ, মুসলিমদের অবস্থার উন্নতি করুন। তাঁদের মধ্যে ঐক্য তৈরি করুন এবং সত্যের পথে পরিচালিত করুন।”
হজ হলো ইসলামের মৌলিক স্তম্ভ। এর ভিত্তি হলো আল্লাহর একত্ববাদ ও তাঁর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য। উত্তম আচরণ ও সত্য কথার মাধ্যমে হজের পূর্ণতা আসে। গুনাহ, ঝগড়া-বিবাদ এবং রাজনৈতিক স্লোগান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান ইমাম।
খুতবার সমাপন হওয়ার পর হাজিরা সুন্নাহ অনুযায়ী জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করেন। সৌদি আরবের সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানায়, আরাফাতের ময়দান থেকে উত্তরে অবস্থিত মসজিদে নামিরা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। মহানবী (সা.) এখানে তাঁর বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। নামিরা পাহাড়ের নামানুসারে এই মসজিদের নামকরণ হয়েছে। এটি মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। হজের জন্য নির্ধারিত মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফার মধ্যে এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম মসজিদ।
সৌদি আরবের পরিবহন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক সংস্থা মক্কা জেনারেল ট্রান্সপোর্ট সেন্টার জানায়, হাজিরা আরাফাতে পৌঁছানোর কাজ সকাল ৭টা ৫৬ মিনিটের মধ্যে শেষ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় দুই ঘণ্টা আগে যাতায়াত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হয়। হাজির আনা-নেওয়ার জন্য শাটল বাস, সাধারণ যানবাহন এবং আল মাশায়ের আল মুকাদ্দাসাহ মেট্রোরেল ব্যবহার করা হয়।
নামিরা মসজিদে হাজিরা ভোরবেলা থেকে সাদা ইহরাম পরিহিত অবস্থায় কোরআন তিলাওয়াত করেন। এই স্থানে মহানবী (সা.) তাঁর বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। কারণ, এটিই ইসলামে উল্লিখিত বিভিন্ন পবিত্র স্থানের একটি প্রধান নিদর্শন।
