ঈদের স্মৃতি ও কোরবানির ভাগাভাগি
ম স ব ল র দ য় – গুলশান আরা চম্পা তাঁর ছেলেবেলা থেকে ঈদের আনন্দের অনুভূতি সঞ্চয় করেছেন। তিনি বলেন, ঈদ তাঁর কাছে ছিল স্মৃতি, ভালোবাসা আর ত্যাগের গল্প। বাংলাদেশের ঈদ তাঁর জন্য কোনও বিদেশের ঈদের চেয়ে সুন্দর মনে হত। শৈশবের ঈদ তাঁকে উৎসবের অপেক্ষা করত, কিন্তু কোরবানির ঈদে তিনি মনে করেন ত্যাগের অনুভূতি ছিল অনেক বেশি।
তিনি বলেন, ঈদ এলে আমার ওপর পড়ত মাংস বণ্টনের দায়িত্ব। আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে কোরবানির মাংস পৌঁছে দেওয়া ছিল তাঁর বাধ্যতামূলক কাজ। বিয়ের পর তিনি নিজের সংসারে সেই দায়িত্বটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিলেন।
ঈদে খাবার হজমে সাহায্য করে যেসব বিষয়
তিনি জানান, তাঁর শৈশবে ঈদ ছিল নতুন জামা, মাথার ফিতা আর চুড়ি ঘিরে। সেই সময় বাবা যদি নতুন পোশাক কিনে দেন না, ঈদ পূর্ণ হত না। তাঁর মনে হত, কোরবানির ঈদে সবচেয়ে বেশি আনন্দ ছিল সেই মাংস খাওয়ার জন্য। তখন তিনি গরু ও ছাগল খুব আদর করতেন।
অভিনয়জীবনে ঈদ তাঁর কাছে ছিল নতুন সিনেমা মুক্তির আনন্দ। সেই দিনে না গেলেও তিনি বোরকা পরে দর্শকের ভিড়ে নিজের সিনেমা দেখতেন। কখনো মধুমিতা কিংবা কখনো মিরপুরের সনি সিনেমা হলে সেই স্মৃতি সংগ্রহ করতেন। তাঁর কাছে ঈদ সঠিক সময়টা নিশ্চিত না হলেও সেটা নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি হয়েছিল।
ওডিশায় কাজ করার সময় সেই ঈদ সংগ্রহ করতেন সন্দীপ রায় পরিচালিত টার্গেট ছবিতে। তাঁর সহশিল্পী ছিলেন ওম পুরী। কোরবানির ঈদের দিনও শুটিং চলছিল। ইউনিটের সবাই ছিলেন আত্মীয় স্বজনের মতো আন্তরিক। শুটিং পেছানোর সুযোগ থাকলেও তিনি নিজেই কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
তাঁর মনে হয়েছিল, ঈদ তো জীবনে আবার আসবে। কিন্তু সেই দিনে মানুষের শিডিউল নষ্ট হলে তাঁর কাছে সেটি মেলানো কঠিন ছিল। সেই অসম্ভব শিক্ষা প্রতিটি ঈদ জীবনের গভীরতম একটি মুহূর্ত হয়ে দাঁড়ায়। ত্যাগ, ভাগাভাগি আর ভালোবাসা তাঁর জন্য ছিল ঈদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সার্থকতা।
তাঁর মতে, কোরবানির মাধ্যমে শুধু পশু উৎসর্গ হয় না, বরং মানুষের অহংকার, লোভ ও স্বার্থপরতা ত্যাগের প্রতীকী চর্চা হয়। সেই ত্যাগের আনন্দ জীবনে সহমর্মিতা ও মানবিকতার সম্পর্ক আরও গভীর করে তোলে।
এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা তাঁর জীবনে বিশেষ আনন্দ নিয়ে এসেছে। বহুদিনের স্বপ্ন হজ পালনের জন্য তাঁর এখন সৌদি আরবে এসেছে। পরি�
