পৃথিবীর বুকে প্রাচীন কাল থেকে স্থায়ী কিছু আশ্চর্য রয়েছে
প র ম ড য ভ ব – মিসরের গিজার গ্রেট পিরামিড হাজার হাজার বছর ধরে ভূমিকম্পের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার জন্য মুক্ত থাকে। আধুনিক বিজ্ঞান এটি ব্যাখ্যা করতে আজও সমস্যা পেয়ে থাকে। এই প্রাচীন কালের অপরিসীম সৌন্দর্যের নির্মাণ যেভাবে ভূমিকম্পের সম্মুখীন হয়ে নিরাপদ থাকে, তা আজও এক গুরুতর রহস্য হিসেবে পরিচিত।
বর্তমানে গবেষকদের কাছে নতুন সত্য খুলে আসছে। পিরামিডের ভেতরে খননের মাধ্যমে তারা নিশ্চিত করেছেন যে এই স্থাপনার সামন্ত্রিক নকশা এবং অনন্য প্রকৌশল এটিকে শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রতিরোধ করে। গবেষণার ফলাফল সায়েন্টিফিক রিপোর্টস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
বিশেষ কাঠামোর ভূমিকা
গ্রেট পিরামিড নির্মাণের সময় প্রথমে শক্তিশালী চুনাপাথরের ভিত্তি বা বেডরক ব্যবহার করা হয়েছিল। এই ভিত্তি সম্পূর্ণ ভাবে কম্পনের শক্তি শোষণ করে। অতিরিক্ত কার্যক্ষম প্রকৌশলের জন্য পিরামিডের সুষম জ্যামিতিক আকৃতি ও কিংস চেম্বারে অবস্থিত কয়েকটি ফাঁকা জায়গা স্থায়িত্বের কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
পিরামিডটি নির্মাণের জন্য তারা প্রথমে একটি শক্ত চুনাপাথরের ভিত্তি বা বেডরক বেছে নিয়েছিল। এর পাশাপাশি পিরামিডের সুষম জ্যামিতিক আকৃতি, সামগ্রিক কাঠামোর দৃঢ় নকশা ও কিংস চেম্বার বা রাজার কক্ষের ঠিক ওপরে চাপ উপশমকারী কিছু ফাঁকা জায়গা বা ক্যাভিটি তৈরি করা হয়েছিল। এই সবকিছুর সম্মিলিত মেকানিজমই পিরামিডটিকে ভূমিকম্প প্রতিরোধী করে তুলেছে।
গবেষণার প্রমাণ অনুযায়ী পিরামিডের ভেতরে কম্পনের ফ্রিকোয়েন্সি ছিল ২.০ থেকে ২.৬ হার্টজ। যেহেতু পিরামিডের কাঠামো মাটির ধীর কম্পনগুলো অপেক্ষাকৃত দ্রুত গতিতে সামঞ্জস্য করে, তাই ভূমিকম্পের তীব্রতা পিরামিডের মূল ভাগে অবস্থিত কিংস চেম্বারের কাছে পৌঁছায়।
আস্ত্রার স্থানে বিশেষ প্রকারের ক্যাভিটি আছে যেগুলো ভূমিকম্পের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করে। গবেষকদের মতে এই ফাঁকা জায়গাগুলো কাঠামোজুড়ে সামান্য শক্তি অবশোষণের কাজে সাহায্য করে। মাটির কম্পনের ফ্রিকোয়েন্সি ছিল মাত্র ০.৬ হার্টজ। এই পার্থক্য পিরামিডের টিকে থাকার মূল কারণ।
পিরামিডের চারপাশে বিভিন্ন কক্ষ, ব্লক ও মাটির অবস্থানে ৩৭টি কম্পনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে পিরামিডের ভূমিকম্প বিরোধী গঠন যে প্রকৌশল দ্বারা তৈরি হয়েছিল, তা বিশ্বাসঘাতক ছিল না। এই অংশগুলো মাটির কম্পন পুরো কাঠামোতে সমানভাবে বিভাজিত করে।
গুরুতর ভূমিকম্প তার উপকেন্দ্র থেকে ২৫০ কিলোমিটার এলাকায় মুক্তিধরা ক্ষতি করতে পারে। অথচ গ্রেট পিরামিডের কোনো অংশের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। কিংস চেম্বারের ওপরে থাকা পাঁচটি ফাঁকা ঘর তীব্রতা কমানোর জন্য সরাসরি দেয়াল হিসেবে কাজ করে।
