কোরবানির পশুর হাট নিয়ন্ত্রণে পুরোনো ধারা
ক রব ন র পশ র হ – রাজনৈতিক দলের ক্ষমতার সময় তার নেতা এবং সদস্যদের কাছে কোরবানির পশুর হাট নিয়ন্ত্রণ ছিল সাধারণত। কেউ যে ব্যবসায়ী হিসেবে হাট ইজারা নেবেন, তা কোনও সমঝোতার মাধ্যমে চুক্তি হতো। দলের নেতাদের কাছে ব্যবসায়ী বা তাদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা কোরবানির হাট নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পেয়েছেন অনেক সময়। এখনও এই প্রথা পরিবর্তন হয়নি ক্ষমতার পরিবর্তনের পর।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর এই নিয়ন্ত্রণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিএনপি এবং তাদের সম্পর্কিত ব্যক্তির হাতে সুস্পষ্ট হয়েছে। নগর-পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একটি আকাঙ্ক্ষা ছিল সুযোগের সমতা নিশ্চিত করা। কিন্তু দেখা গেছে যে সেই লক্ষ্য কোরবানির হাট নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্থপ্রাপ্তি দ্বারা পূরণ হয়নি।
এবার রাজধানীতে ২১টি অস্থায়ী পশুর হাট গঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তরে প্রায় ১১টি এবং ঢাকা দক্ষিণে প্রায় ১০টি হাট। উত্তরের সবগুলো হাটের ইজারাদার হিসেবে বিএনপি ও তাদের সংগঠনের নেতারা রয়েছেন। কিছু হাট সরাসরি তাদের হাতে ছিল, কিছু ক্ষেত্রে তাঁদের সম্পর্কে পরিচালনা করেছেন নেপথ্যে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, কোন হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে সরকারি দরের চার গুণ বেশি টাকায়। যেমন ডেমরা আমুলিয়া মডেল টাউনের হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকায়, যখন সরকারি দর ছিল ৫৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। সিকদার মেডিকেল কলেজের কাছাকাছি হাট ইজারা সরকারি দরের তুলনায় মাত্র ১০ হাজার টাকা বেশি দরে বিক্রয় করা হয়েছে।
প্রতিযোগিতা নেই আওয়ামী লীগের সময়
আওয়ামী লীগের আমলে হাট ইজারা নেওয়া প্রক্রিয়ায় কোনও প্রতিযোগিতা ছিল না। হাটগুলো অনেক সময় দলের নেতা এবং তাদের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাতে ছিল। বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় সেই ধারা অবিকৃত রয়েছে।
“আওয়ামী লীগ আমলে হাট ইজারা নেওয়ার মতো অবস্থা অন্য কোন দলের কারও ছিল না। এবার হাট ইজারার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা ছিল। ২ কোটি ৭১ লাখ টাকার হাট ৪ কোটি ১ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছি।”
বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মাহবুব মাওলা শ্যামপুর থানার হাট ইজারা পেয়েছেন ৪ কোটি ১ লাখ টাকায়। গত বছর এই হাট ইজারা পেয়েছিলেন বিএনপির রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। আগে এই হাট ইজারা নিতেন আওয়ামী লীগের প্রাক্তন কাউন্সিলর হামিদুল হক।
উত্তর শাহজাহানপুরে মৈত্রী সংঘ ক্লাবের পাশে হাট ইজারা পেয়েছেন ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান। তিনি ৩ কোটি ১�
