Uncategorized

ঘর বাঁচলে জীবন বাঁচে, দারিদ্র্য কমে, মর্যাদাও বাড়ে

Screenshot-2024-11-18-170614

নিরাপদ আবাসন স্বল্প আয়ের মানুষের জীবন বদলাতে পারে

Banglaprabah.com – ঘর ব চল জ বন ব চ – একটি টেকসই ঘর কেবল মাথা গোঁজার জায়গা নয়; এটি পরিবারের নিরাপত্তা, পরিচয় ও ভবিষ্যৎ গড়ার ভিত্তি। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ঘর ভেঙে যাওয়া মানে সঞ্চয় হারানো, নতুন ঋণের বোঝা এবং আবারও অনিশ্চয়তার শুরু। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন বা অন্য দুর্যোগে দুর্বল বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে দারিদ্র্য থেকে বের হওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশে ছোট অঙ্কের আবাসন ঋণের প্রয়োজন অনেক হলেও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সাধারণত এ খাতে আগ্রহী নয়। কম লাভ, তুলনামূলক বেশি ঝুঁকি এবং জমির দলিল বা বন্ধকের শর্ত দরিদ্র পরিবারের নাগালের বাইরে থাকে। ফলে বহু পরিবার নিজেদের সামান্য সঞ্চয় দিয়ে ধাপে ধাপে ঘর নির্মাণ করে। এতে ঘর অনেক সময় অসম্পূর্ণ থেকে যায়, আর নির্মাণের মানও দুর্বল হয়।

এই বাস্তবতায় পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন বা পিকেএসএফ আবাসন ঋণ এবং জলবায়ু-সহনশীল ঘরের উদ্যোগকে গুরুত্ব দিয়েছে। তাদের সহযোগী সংস্থাগুলোর মাধ্যমে নেওয়া কর্মসূচিতে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হয়; বন্ধক লাগে না, ক্ষুদ্রঋণের চেয়ে পরিশোধের সময় তুলনামূলক দীর্ঘ এবং সুদের হারও কম। উদ্দেশ্য হলো নিরাপদ আবাসনের মাধ্যমে পরিবারকে বারবার দুর্যোগ ও ঋণের চক্রে পড়া থেকে সুরক্ষা দেওয়া।

নিম্ন আয়ের পরিবারে আবাসন ঋণের অভিজ্ঞতা

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০১৬ সালে শুরু হয়েছিল ‘লো-ইনকাম কমিউনিটি হাউজিং সাপোর্ট প্রজেক্ট’ বা এলআইসিএইচএসপি। সাতটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় দেশের ১৩টি শহরে এই উদ্যোগে আবাসন ঋণ দেওয়া হয়। ২০২১ সালের মে পর্যন্ত ১২ হাজার ২ জন সদস্য মোট ২৫৫ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছেন।

এই ঋণের ৫৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ পেয়েছে মাসে ২৫ হাজার টাকা আয় করা স্বল্প আয়ের পরিবার। প্রকল্পের নির্ধারিত লক্ষ্য ছিল ৪০ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের মিশন প্রকল্পটিকে ‘অত্যন্ত সন্তোষজনক’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছিল, যা বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংক-সমর্থিত প্রকল্পের সর্বোচ্চ রেটিং।

আবাসন উন্নয়নের সুফল কেবল দেয়াল বা ছাদের মধ্যে সীমিত থাকে না। মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ঋণগ্রহীতা পরিবারগুলোর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ভালো হয়েছে, শিশুদের পড়ালেখার পরিবেশ উন্নত হয়েছে এবং সামাজিক মর্যাদাও বেড়েছে। কোথাও কোথাও উন্নত ঘর থেকে ছোট ব্যবসার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এলআইসিএইচএসপির অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পিকেএসএফ ২০১৯ সালে নিজস্ব তহবিলে ‘আবাসন ঋণ’ কর্মসূচি চালু করে। জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৪২ জেলার ১৬০ উপজেলায় ৩২টি সহযোগী সংস্থার ৩৬০টি শাখা এ কাজে যুক্ত ছিল। এ সময় ৫২ হাজার ১৮৪টি পরিবার ঋণ পেয়েছে এবং বিতরণ করা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা।

কেউ এই অর্থে নতুন বাড়ি নির্মাণ করেছেন, কেউ পুরোনো ঘর মেরামত বা সম্প্রসারণ করেছেন। বহু ঘরে পাকা কাঠামো, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, উন্নত রান্নাঘর ও ভালো স্যানিটেশনের ব্যবস্থা হয়েছে। এসব পরিবর্তন দৈনন্দিন জীবনকে আরও স্বাস্থ্যকর ও স্থিতিশীল করে।

দারিদ্র্য কমানোর সঙ্গে ঘরের সম্পর্ক

ঘর দারিদ্র্য হ্রাসে কীভাবে কাজ করে, তার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। প্রথমত, একটি স্থায়ী ঠিকানা পরিবারকে সমাজে পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা দেয়। এটি শুধু বসবাসের স্থান নয়, পরিবারটির সামাজিক অবস্থান প্রকাশেরও একটি মাধ্যম।

দ্বিতীয়ত, নিরাপদ ঘর নারীর ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখতে পারে। ঘরের ভেতরে নারীর সময় কাটে সবচেয়ে বেশি। ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং সম্মানজনক পরিবেশ তাঁর জীবনযাত্রার জন্য জরুরি। ঘরের মালিকানা বা যৌথ মালিকানায় নারীর অংশ থাকলে পারিবারিক সিদ্ধান্তে তাঁর দর-কষাকষির শক্তিও বাড়তে পারে।

তৃতীয়ত, ভালো ঘর শিক্ষার জন্য সহায়ক। আলো ও বাতাসের ব্যবস্থা থাকলে শিশুরা পড়ার অনুকূল পরিবেশ পায়। অন্যদিকে, প্রতি দুর্যোগে বাড়ি মেরামতের জন্য অর্থ ব্যয় হলে শিক্ষার খরচ সংকুচিত হয়; কখনো কখনো সেই ব্যয় একেবারেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

চতুর্থত, আবাসনের মান সরাসরি স্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত। স্যাঁতসেঁতে, অস্বাস্থ্যকর ও ঘিঞ্জি ঘরে শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। নিরাপদ স্যানিটেশন ও উন্নত রান্নার ব্যবস্থা থাকলে এ ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

পঞ্চমত, দরিদ্র পরিবারের সবচেয়ে বড় সম্পদ অনেক ক্ষেত্রেই তাদের ঘর। সেই সম্পদকে ঘিরে ভবিষ্যতে আরও অর্থনৈতিক সুযোগ গড়ে উঠতে পারে। ষষ্ঠত, বাড়ি নির্মাণ ও সংস্কার স্থানীয় অর্থনীতিতেও গতি আনে। রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি, দিনমজুর ও নির্মাণসামগ্রীর বিক্রেতারা কাজ পান। অনেক পরিবারের ঘর আবার আয় করার জায়গা—সেখানে সেলাইয়ের কাজ, হাঁস-মুরগি পালন কিংবা ছোট দোকান পরিচালিত হয়।

জলবায়ু ঝুঁকিতে সহনশীল বসতভিটার প্রয়োজন

বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় ও লবণাক্ততা, আর উত্তরাঞ্চলে বন্যা ও নদীভাঙন মানুষের বসতভিটাকে বারবার হুমকির মুখে ফেলে। তাই এসব অঞ্চলে সাধারণ নির্মাণপদ্ধতির ঘর যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দুর্যোগ সহনশীল নকশা ও উপকরণ।

গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ‘রেজিলিয়েন্ট হোমস্টেড অ্যান্ড লাইভলিহুড সাপোর্ট টু দ্য ভালনারেবল কোস্টাল পিপল অব বাংলাদেশ’ বা আরএইচএল প্রকল্প এ চাহিদাকে সামনে রেখে কাজ করছে। খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা ও কক্সবাজারের ২১ উপজেলায় ১৮টি সহযোগী সংস্থা এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত। লক্ষ্য ৩ হাজার বসতভিটা গড়ে তোলা।

প্রতিটি ঘরে উঁচু ভিটা, শক্তিশালী কাঠামো, নিরাপদ পয়োনিষ্কাশন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা, সৌরবিদ্যুৎ ও উন্নত চুলা রাখা হয়েছে। আশপাশে ঝড় প্রতিরোধে গাছ লাগানোর কাজও চলছে; ইতিমধ্যে ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি গাছ রোপণ করা হয়েছে।

২০২৫ সালের মে মাসে ঘূর্ণিঝড়ে সাত জেলায় ৫০ হাজারের বেশি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই সময়ে আরএইচএল প্রকল্পের ঘরে ৭০০ পরিবার নিরাপদে ছিল। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাতক্ষীরার আশাশুনিতে ভূমিকম্পের ঘটনায় প্রকল্পের ইটের ঘরগুলোর কোনো ক্ষতি হয়নি বলেও জানানো হয়েছে।

এই উদ্যোগে আবাসনের সঙ্গে জীবিকার বিষয়টিও রাখা হয়েছে। উঁচু মাচায় ছাগল ও ভেড়া পালন, লবণসহিষ্ণু সবজি উৎপাদন, বস্তায় আদা চাষ এবং কাঁকড়া চাষে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ২০২৫ সালে ৬ হাজার ১৮৮ জন আদা চাষি প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা আয় করেছেন।

বন্যাপ্রবণ উত্তরে উঁচু ভিটার উদ্যোগ

উত্তরাঞ্চলের বন্যাপ্রবণ এলাকাতেও একই ধরনের চিন্তা থেকে ইসিসিসিপি-ফ্লাড প্রকল্প পরিচালিত হয়েছে। গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড ও পিকেএসএফের মোট ১৩ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্প কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা ও জামালপুরে বাস্তবায়িত হয়েছে।

এ উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য ছিল বন্যার পানি থেকে পরিবারকে রক্ষা করতে বসতভিটা উঁচু করা। অতীতের সর্বোচ্চ বন্যার উচ্চতার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ভিটা উন্নয়নের এই ধারণা দুর্যোগে ক্ষতি কমানোর একটি কার্যকর পথ দেখায়। নিরাপদ ঘর ও সুরক্ষিত ভিটা থাকলে একটি পরিবার শুধু আশ্রয়ই পায় না, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আয় ও মর্যাদার ওপর দাঁড়িয়ে নতুনভাবে এগোনোর সুযোগ পায়।

Frequently Asked Questions

What is ঘর ব চল জ বন ব চ?

ঘর ব চল জ বন ব চ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ঘর ব চল জ বন ব চ matter?

ঘর ব চল জ বন ব চ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *