Uncategorized

মেসজীবনের কষ্ট জাহিদ হাসানকে শিখিয়েছে ছাড় দেওয়া ও ভাগাভাগি

20250306SA0039

ষাটে পা জাহিদ হাসানের, জীবনের হিসাব মেলাতে ফিরে দেখছেন পথচলা

Banglaprabah.com – ম সজ বন র কষ ট জ – মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ জাহিদ হাসান আজ ৪ অক্টোবর ২০২৬ সালে ৬০ বছরে পা রাখলেন। বয়সের সংখ্যাটি তাঁর নিজের কাছেই যেন বিস্ময়ের। কথার ফাঁকে বয়স জানতে চাইলে তিনি সংক্ষিপ্ত উত্তর দেন, ‘৬০।’ কিন্তু পরিবারে সবার ছোট হওয়ায় বয়স বাড়ার অনুভূতি এখনো তাঁর কাছে খুব স্পষ্ট নয়।

নব্বইয়ের দশক থেকে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই শিল্পী এখনো নানা চরিত্রে হাসি ও আবেগের মুহূর্ত তৈরি করেন। জন্মদিনে জীবনের দিকে ফিরে তাকিয়ে তিনি বলছেন ভুল, অনুশোচনা এবং ভবিষ্যতে মানুষের পাশে আরও বেশি করে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা।

পরিবারে এখনো সবার ছোট

সব ভাইবোনের মধ্যে জাহিদ হাসানই কনিষ্ঠ। সেই পরিচয় তাঁর কাছে বয়সের চেয়েও বড় হয়ে আছে। পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি আজও ছোট ভাই বা ছোট সন্তান হিসেবেই পরিচিত।

‘অনেকের কাছে আমি বড় হলেও পরিবারের সবার ছোট, তাই আজীবনই সবার কাছে ছোটই থেকে গেলাম। বয়স যে এতটা বেড়েছে, তা ভাবনার মধ্যে আসে না।’

এই বয়সে এসে নিজের জীবনকে নিখুঁত বলে দেখানোর চেষ্টা করেন না তিনি। বরং অতীতের ভুলগুলো স্বীকার করেই সামনে এগোতে চান। মানুষের জীবনে ভুল হওয়াকে স্বাভাবিক মনে করলেও, তাঁর কারণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।

‘জীবনে অনেক ভুল করেছি। মানুষ ভুল করবে, সেটাই স্বাভাবিক। আমিও মানুষ। বিগত দিনের ভুলের জন্য কিংবা কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে দুঃখিত। আগামী জীবনটা যেন মানুষের জন্য কিছু করতে পারি। জীবনটা যেন মানুষের কাজে আসে।’

সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগোনোর ভাবনা

জাহিদ হাসানের ভাবনায় ব্যক্তিগত সাফল্যের সঙ্গে অন্যদের ভালো থাকাও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, কেবল নিজের সুবিধা নিয়ে ভাবলে জীবনের পূর্ণতা আসে না। পরিবার, সহকর্মী ও আশপাশের মানুষকে নিয়ে ভালো থাকার চেষ্টাই তাঁর কাছে জরুরি।

‘আমি সব সময় চেয়েছি, সবাইকে নিয়ে ভালো থাকতে। সেই চেষ্টা এখন আরও বেশি। আমার কাছে মনে হয়, সবাইকে নিয়ে এগোনোর চিন্তা করলে দেশেরও উন্নতি হবে।’

দুই সন্তানের বাবা জাহিদ হাসান। তাঁর বড় মেয়ে লন্ডনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পড়ছেন। ছেলে এ লেভেল সম্পন্ন করেছেন এবং উচ্চশিক্ষার জন্য শিগগিরই দেশের বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সন্তানদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর আনন্দ থাকলেও দূরে থাকা মেয়েকে ঘিরে রয়েছে স্বাভাবিক বাবা-মেয়ের টান।

ফোনে মেয়ের সঙ্গে কথা বলার সময় যখন সে বাড়ির খাবার, বাবাকে কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যদের মিস করার কথা বলে, তখন তাঁর মন ভারী হয়ে যায়। আবেগপ্রবণ জাহিদ হাসান ভালো কোনো কথা শুনেও চোখের পানি ধরে রাখতে পারেন না; আবার অন্যের কষ্ট দেখলে সেই অনুভূতি আরও তীব্র হয়। মেয়ের অভাব মনে করে কখনো তাঁর কান্নাও পায়।

জন্মদিনের উৎসব থেকে মেসের ঘর

শৈশবের জন্মদিন ছিল পরিবারের উষ্ণ আয়োজনের দিন। ছোট ছেলে বলে সেদিন বাড়িতে আলাদা আনন্দ থাকত। মা রান্না করতেন পায়েসসহ নানা পদ, আসত কেক। চানাচুর, কলা এবং ঘরোয়া নানান আয়োজন মিলিয়ে দিনটি হয়ে উঠত বিশেষ।

আশির দশকের শেষদিকে অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসার পর সেই চেনা চিত্র বদলে যায়। শুরু হয় মেসজীবন, যার মধ্যে ছিল সীমাবদ্ধতা, পরিশ্রম এবং একসঙ্গে বেঁচে থাকার শিক্ষা। ১৯৮৯ সালের জন্মদিনের একটি দৃশ্য এখনো তাঁর মনে আছে। ধানমন্ডি ১৫ নম্বরের একটি মেসে সেদিন নিজের ঘর ঝাড়ু দিচ্ছিলেন তিনি। একই ঘরে চার বা পাঁচজন থাকতেন।

রান্নার জন্য একজন বুয়া থাকলেও প্রতিদিনের খাবার সব সময় পছন্দমতো বা খাওয়ার উপযোগী হতো না। ফলে মেসের বাসিন্দাদের অনেক সময় নিজেরাই ভাজি ও তরকারি রান্না করে খেতে হতো। শিল্পীজীবনের স্বপ্নের পেছনে থাকা এই দৈনন্দিন সংগ্রাম তাঁকে বাস্তবতা চিনিয়েছে।

সেই জন্মদিনে এক রুমমেটের আইনজীবী বাবা তাঁর মন খারাপের কথা শুনে ডাকনাম ধরে আশ্বাস দিয়েছিলেন।

‘মন খারাপ কোরো না পুলক, এমন একটা দিন আসবে, যেদিন সারা দেশের মানুষ তোমার জন্মদিন পালন করবে।’

পরবর্তী সময়ে অভিনয়ে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর রেডিও, টেলিভিশন এবং সংবাদপত্রে তাঁকে নিয়ে আলোচনা হলে ওই কথাটি বারবার মনে পড়েছে জাহিদ হাসানের। একটি মেসের ছোট্ট ঘরে উচ্চারিত সেই শুভকামনা তাঁর কাছে আজও স্মরণীয়।

কষ্টের ভেতর থেকে পাওয়া শিক্ষা

ঢাকায় এসে থিয়েটারের কাজ শুরু করার সময় অভিনয়ের বাইরেও নানা দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে তাঁকে। দলের ঘর পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় ছোটখাটো কাজ—সবই ছিল পথচলার অংশ। পরে গড়ে ওঠে নাট্যকেন্দ্র। এই অভিজ্ঞতাগুলো তাঁর শিল্পীসত্তার পাশাপাশি মানুষ হিসেবেও তাঁকে তৈরি করেছে।

‘কষ্টের মধ্যেও একধরনের শান্তি আছে, আবার কষ্টের মধ্যে অশান্তিও আছে। জীবনে কোনো কিছুই সহজে পাওয়া যায় না। তাই কষ্টের পরের সুখটা আসলে অন্য রকম।’

মেসজীবন থেকে পাওয়া সবচেয়ে বড় শিক্ষা ছিল ছাড় দেওয়া এবং ভাগ করে নেওয়া। একসঙ্গে থাকার অর্থ শুধু একই ছাদের নিচে থাকা নয়, বরং অন্যের প্রয়োজন ও সীমাবদ্ধতাকেও জায়গা দেওয়া—এমন উপলব্ধি তাঁর মধ্যে তখনই তৈরি হয়। বাথরুমে রাখা সাবান বা শ্যাম্পু অন্য কেউ ব্যবহার করলে তাতে তাঁর আপত্তি ছিল না। তাঁর কাছে বিষয়টি ছিল যৌথ জীবনের স্বাভাবিক রীতি।

ষাট বছরে দাঁড়িয়ে জাহিদ হাসানের স্মৃতিতে তাই সাফল্যের আলো যেমন আছে, তেমনি আছে মেসের ঘর, ভাগাভাগি করা খাবার, শুরুর দিনের সংগ্রাম এবং কাছের মানুষদের দেওয়া ভরসা। তাঁর কথায়, জীবনের পরের সময়টুকু যেন মানুষের উপকারে লাগে—এই আকাঙ্ক্ষাই এখন সবচেয়ে বড়।

Frequently Asked Questions

What is ম সজ বন র কষ ট জ?

ম সজ বন র কষ ট জ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ম সজ বন র কষ ট জ matter?

ম সজ বন র কষ ট জ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *