টিটন হত্যা মামলার দুই আসামি সীতাকুণ্ডের হোটেল থেকে আটক
Banglaprabah.com – শ র ষ সন ত র স – রাজধানীর আলোচিত সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যা মামলায় অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তার দুজন হলেন ফারুক হোসেন ওরফে রিপন মাস্টার এবং বাদল।
ফারুক হোসেন একসময় মোহাম্মদপুর থানা যুবদলের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন। পরে তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। টিটন হত্যা মামলার পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে রাজধানীতে সংঘটিত আরও কয়েকটি অপরাধের অভিযোগ ও মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঢাকা পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর ভাষ্য, মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ থেকে খবর আসে যে দুই ব্যক্তি সীতাকুণ্ড এলাকায় অবস্থান করছেন। সেই তথ্য ধরে স্থানীয় পুলিশ হোটেলটিতে অভিযান চালায়। গ্রেপ্তারের পর রাতেই ঢাকা থেকে আসা একটি দলের কাছে তাঁদের হস্তান্তর করা হয়।
‘মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ জানায় দুই সন্ত্রাসী সীতাকুণ্ডে অবস্থান করছে। পরে হোটেল অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতে তাঁদের ঢাকা থেকে আসা একটি দল নিয়ে যায়।’
পুলিশ সুপার আরও বলেন, টিটন হত্যা মামলা ছাড়াও ফারুক ও বাদলের বিরুদ্ধে বছিলার একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদা না পেয়ে গুলি চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া এ্যালেক্স ইমন হত্যা মামলাসহ তাঁদের নামে একাধিক মামলা রয়েছে।
যেভাবে টিটন নিহত হন
গত ২৮ এপ্রিল রাত আনুমানিক পৌনে আটটার দিকে নিউমার্কেট এলাকার পশ্চিম পাশে গুলিতে নিহত হন খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন। ঘটনাস্থল ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলা এলাকা। দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে পুলিশ জানায়।
হত্যাকাণ্ডের পর টিটনের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার নিউমার্কেট থানায় মামলা করেন। সেই মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় সীতাকুণ্ড থেকে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী এগোবে।
দীর্ঘ অপরাধজীবনের পরিচিত মুখ
টিটনের নাম দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর অপরাধজগতের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ২০০১ সালে সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় তাঁর নাম ছিল দ্বিতীয় স্থানে। পুলিশ সূত্রের তথ্যে জানা যায়, তাঁর জন্ম ১৯৬৬ সালে। তাঁর বাবা কে এম ফখরুদ্দিন এবং মা আকলিমা বেগম।
১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে টিটন অপরাধজগতে প্রবেশ করেন। শুরুতে তিনি স্থানীয় একটি অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সময়ের সঙ্গে তাঁর প্রভাব বাড়ে এবং তিনি একাধিক সহিংস ঘটনার নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে পুলিশের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল। তাঁর নেতৃত্বে অস্ত্র সরবরাহের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছিল বলে পুলিশ জানায়।
টিটনের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা ছিল। এর মধ্যে ব্যবসায়ী বাবর এলাহী হত্যা মামলা বিশেষভাবে আলোচিত। ২০০৪ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁকে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তী সময়ে, ২০১৪ সালে বাবর এলাহী হত্যা মামলায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
জামিনে মুক্তির পর আত্মগোপন
বাবর এলাহী হত্যা মামলায় দণ্ডিত হওয়ার দীর্ঘ সময় পর টিটন ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট জামিনে কারামুক্ত হন। মুক্তির পর তিনি প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা দিতেন না এবং আত্মগোপনে ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পর পুরোনো অপরাধচক্র, ব্যক্তিগত বিরোধ ও মামলাসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়।
সীতাকুণ্ড থেকে দুই আসামিকে আটক করার ঘটনাটি টিটন হত্যা মামলার তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে হত্যার পরিকল্পনা, গুলির ঘটনায় কারা সরাসরি অংশ নিয়েছিল এবং ঘটনার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল—এসব প্রশ্নের পূর্ণ উত্তর তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
রাজধানীর অপরাধসংক্রান্ত বড় মামলাগুলোতে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত, বিভিন্ন জেলার পুলিশের মধ্যে তথ্য বিনিময় এবং দ্রুত অভিযান পরিচালনা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ক্ষেত্রে মোহাম্মদপুর ও চট্টগ্রাম পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান চালিয়ে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা প্রতিটি মামলার বিষয়ে পৃথক আইনি কার্যক্রম চলবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is শ র ষ সন ত র স?
শ র ষ সন ত র স is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does শ র ষ সন ত র স matter?
শ র ষ সন ত র স matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

