ভোলার সভায় দুর্নীতি, পাচার ও বৈষম্যমূলক চুক্তি নিয়ে স্পিকারের অভিযোগ
Banglaprabah.com – আম দ র অদ ভ ত দ – ভোলার তজুমদ্দিনে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে নির্বাচন, দুর্নীতি, অর্থ পাচার এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্যে সরকারি প্রশাসনের একটি অংশের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
রোববার বিকেলে তজুমদ্দিন উপজেলা মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় তিনি বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির নির্বাচনের পথ ধরে আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় ছিল। ক্ষমতায় থাকার সময় দেশের কোষাগার থেকে সম্পদ লুট করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষ্য, বিদেশি সহায়তার অর্থও বিদেশে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
“আমাদের অদ্ভুত দেশ। অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর। নানাভাবে ঘুষ, লুটপাট করে; এর ফলেই মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির প্রসঙ্গ
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনাও বক্তব্যে তুলে ধরেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, চুরি হওয়া অর্থ ফিলিপাইনে নেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে অনিয়মে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কারাবাস হয়েছে। তবে বাংলাদেশের যাঁরা এ ঘটনায় যুক্ত ছিলেন, তাঁদের কারও বিচার হয়নি বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, অনেক দেশে অন্যায় বা অপরাধের বিচার জনদাবির অপেক্ষা না করেই সম্পন্ন হয়। কিন্তু বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে দাবি, অভিযোগ ও কান্নাকাটির পরও গুরুত্বপূর্ণ অপরাধের বিচার দৃশ্যমান হয়নি—এমন অভিযোগ তাঁর।
স্পিকারের বক্তব্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহির বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে। তিনি মনে করেন, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের যথাযথ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের অভাব সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করে।
বিদেশে সম্পদের অভিযোগ
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন নেতা ও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সম্পদ লুটের অভিযোগও করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, লন্ডনে তাঁর ৩৬০টি বাড়ির তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি দুবাই ও যুক্তরাষ্ট্রেও বাড়ি থাকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
এসব সম্পদকে দেশের জনগণের অর্থের সঙ্গে যুক্ত করে স্পিকার বলেন, জনগণের টাকা ও বাংলাদেশের সম্পদ লুট করেই অনেকে বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। তাঁর দাবি, প্রশাসনে এখনো সাবেক ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তি অবস্থান করছেন। এ কারণে দেশের প্রকৃত পরিস্থিতি জনগণের সামনে পুরোপুরি আসছে না।
“সব বাংলাদেশের সম্পদ, আপনার-আমার টাকা, জনগণের টাকা লুণ্ঠন করে তারা এভাবে নিয়ে গেছে।”
প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও বাণিজ্যিক স্বার্থের প্রশ্ন
প্রতিবেশী ভারতের প্রসঙ্গ টেনে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশকে শক্তিশালী ও স্বার্থসচেতন রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে প্রতিবেশী দেশটি আগ্রহী নয়। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশকে করদ রাজ্যে পরিণত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, গত ১৬ থেকে ১৭ বছরে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের চেয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে কয়েকটি অসম চুক্তির অভিযোগও আসে, যেগুলোর কারণে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম নিয়ে তিনি একটি উদাহরণ দেন। তাঁর ভাষ্য, ভারতীয় জাহাজ বন্দরে এলে অন্য জাহাজ, এমনকি বাংলাদেশের জাহাজের কাজও আগে বন্ধ বা খালি করে দিতে হয়; ভারতীয় জাহাজের পণ্য খালাসের পর স্থানীয় আমদানিকারকেরা সুযোগ পান। এই ব্যবস্থাকে তিনি দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে বর্ণনা করেন।
ভারতের পণ্য বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পরিবহনের বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন স্পিকার। তিনি বলেন, এ ধরনের পরিবহনের জন্য যে পরিমাণ শুল্ক দেওয়ার কথা, তা যথাযথভাবে আদায় হয় না। তাঁর দাবি, নামমাত্র শুল্কে বা শুল্ক ছাড়াই পণ্য পরিবহন হলে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত হন।
“সারা বিশ্বে পণ্য পরিবহনে শুল্ক দিতে হয়। কিন্তু এখানে বিনা শুল্কে বা নামমাত্র শুল্কে পণ্য নেওয়া হচ্ছে, যা জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী।”
সীমান্ত হত্যা নিয়েও মন্তব্য
সীমান্তে প্রাণহানির ঘটনাও বক্তব্যে উল্লেখ করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সীমান্তে প্রতিদিন মানুষ হত্যার অভিযোগ ওঠে। ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানেরও সীমান্ত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সেখানে একই ধরনের গুলির ঘটনা কেন দেখা যায় না।
তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা, দুর্নীতির বিচার, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক বা দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে এসব প্রসঙ্গ জনজীবনের সঙ্গেও যুক্ত—কারণ দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, শুল্কনীতি ও বন্দর ব্যবস্থাপনার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকের ওপর পড়ে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ। এতে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি জাকির হোসেন হাওলাদার ও হাসান মাকসুদুর রহমান, ভোলা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম এবং চাঁদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মহিউদ্দিন জুলফিকারসহ অন্যান্য নেতা উপস্থিত ছিলেন।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is আম দ র অদ ভ ত দ?
আম দ র অদ ভ ত দ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does আম দ র অদ ভ ত দ matter?
আম দ র অদ ভ ত দ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

