৬৫ র প ব তন র শিক্ষক থেকে প্যারিসের সুপারমডেল
Banglaprabah.com – ৬৫ র প ব তন র স – ৬৫ র প ব তন র একটি কিন্ডারগার্টেন শিক্ষিকার চাকরি দিয়ে শুরু হয়েছিল অঞ্জলি মেন্ডিসের কর্মজীবন। অর্থসংকট, প্রত্যাখ্যান ও প্রচলিত সৌন্দর্যবোধের বাধা পেরিয়ে সেই অঞ্জলিই পরে প্যারিসের ফ্যাশন দুনিয়ায় জায়গা করে নেন। তাঁর গাঢ় ত্বক, দীর্ঘকায় ও রোগা গড়ন—যে বৈশিষ্ট্যগুলো ভারতে অনেকের সমালোচনার কারণ ছিল—প্যারিসে হয়ে ওঠে তাঁর স্বতন্ত্র পরিচয়।
ফিলিস মেন্ডিসের শৈশব
অঞ্জলি মেন্ডিসের জন্মনাম ফিলিস মেন্ডিস। ১৯৪৬ সালের ২৯ জানুয়ারি গোয়ান ক্যাথলিক পরিবারে জন্ম তাঁর। সাত ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। বাবা কেজেটান মেন্ডিস সুইস ঘড়ি প্রস্তুতকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন, আর বড় সংসার সামলাতেন মা।
শৈশবে অঞ্জলি ছিলেন বেশ দুরন্ত। গাছে চড়া, ক্রিকেট খেলা ও ছেলেদের সঙ্গে দৌড়ঝাঁপ ছিল তাঁর পছন্দের কাজ। স্কুলে বেশি লম্বা হওয়ার কারণে তাঁকে প্রায়ই পেছনের বেঞ্চে বসতে হতো। পড়াশোনায় খুব উজ্জ্বল না হলেও বই পড়ার প্রতি ছিল গভীর আগ্রহ; এনিড ব্লাইটন ও বারবারা কার্টল্যান্ডের বই পড়তেন তিনি।
একবার পরীক্ষার ফল ভালো না হওয়ায় বন্ধুর কাছে তিনি বলেছিলেন, একদিন তিনি বিখ্যাত হবেন। সেই কিশোরীসুলভ প্রত্যয়ই কয়েক বছরের মধ্যে অন্য রকম বাস্তবতায় রূপ নেয়।
সংসারের চাপে শিক্ষকতা
কলেজজীবনে পরিবারের আর্থিক চাপ বাড়লে অঞ্জলিকে কাজ শুরু করতে হয়। তখন মডেলিংয়ের কথা তাঁর ভাবনাতেও ছিল না। তিনি একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকতা করতেন এবং মাসে পেতেন মাত্র ৬৫ রুপি। ৬৫ র প ব তন র সেই সময়টি তাঁকে স্বনির্ভর হওয়ার শিক্ষা দিয়েছিল।
বাবার চাকরি চলে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়। কলেজের পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে তিনি সচিব হওয়ার প্রশিক্ষণ নেন। পরে বিজ্ঞাপনজগতের পরিচিত ব্যক্তি ববি সিস্তারের ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে কাজ শুরু করেন।
বাসযাত্রা থেকে র্যাম্পে
মডেলিংয়ে তাঁর প্রবেশ ছিল আকস্মিক। বাসে এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয়ের পর তিনি একটি ফ্যাশন শোর খবর পান। সেই সূত্রে অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক জিনি নওরোজির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রথম দেখাতেই নওরোজির নজরে পড়ে অঞ্জলির মোটা ফ্রেমের চশমা; মডেল হতে চাইলে তা বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় তাঁকে।
এরপর কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করে প্রথমবার র্যাম্পে হাঁটেন অঞ্জলি। কিন্তু ফ্যাশনজগতে তাঁর পথ মোটেও সহজ ছিল না। ত্বকের রং ও শরীরের গড়ন নিয়ে প্রকাশ্য মন্তব্য শুনতে হয়েছে তাঁকে। তিনি নিজের চেহারাকে প্রচলিত ছাঁচে ফেলার চেষ্টা না করে সেটিকেই শক্তিতে পরিণত করেন।
যে বৈশিষ্ট্যকে অনেকে দুর্বলতা ভেবেছিলেন, সেটিই অঞ্জলির আন্তর্জাতিক পরিচয়ের ভিত্তি হয়ে ওঠে।
প্যারিসের উদ্দেশে যাত্রা
ভারতে কাজ করতে করতে একটি ফটোশুট থেকে প্রায় পাঁচ হাজার রুপি আয় করেন অঞ্জলি। সেই আয় তাঁকে বড় স্বপ্ন দেখার সাহস দেয়। ১৯৭১ সালে তিনি রিটার্ন টিকিট ও মাত্র ১৫০ ফ্রাঁ নিয়ে প্যারিসে যান—তখন শহরটি ছিল বিশ্বের প্রধান ফ্যাশনকেন্দ্রগুলোর একটি।
প্যারিসে পৌঁছানোর পরদিনই তিনি পিয়ের কারদাঁর বুটিকে যান। পরনে ছিল শাড়ি, খোঁপা ও কপালে টিপ। ফরাসি ভাষা না জানলেও ইংরেজিতে নিজের উদ্দেশ্য বোঝানোর চেষ্টা করেন। পরে একজন ইংরেজিভাষী কর্মীর সহায়তায় তাঁর কথা কারদাঁর প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছায়।
অঞ্জলির আলাদা চেহারা পিয়ের কারদাঁর নজর কাড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি কারদাঁর হাউস মডেল হিসেবে কাজের সুযোগ পান। ৬৫ র প ব তন র চাকরি থেকে প্যারিসের ফ্যাশন অঙ্গনে তাঁর এই উত্থান তাই শুধু পেশাগত সাফল্যের গল্প নয়; নিজেকে গ্রহণ করারও এক অনুপ্রেরণার উদাহরণ।
প্রশ্নোত্তর
অঞ্জলি মেন্ডিস আগে কী কাজ করতেন?
মডেলিংয়ে আসার আগে তিনি একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। তাঁর মাসিক বেতন ছিল ৬৫ রুপি।
অঞ্জলি মেন্ডিস কবে প্যারিসে যান?
তিনি ১৯৭১ সালে প্যারিসে যান এবং ৬ জুন সেখানে পৌঁছান।
পিয়ের কারদাঁর সঙ্গে তাঁর পরিচয় কীভাবে হয়?
প্যারিসে পৌঁছানোর পরদিন অঞ্জলি নিজেই পিয়ের কারদাঁর বুটিকে গিয়ে মডেল হিসেবে কাজের আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে তিনি কারদাঁর হাউস মডেল হিসেবে কাজের সুযোগ পান।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ৬৫ র প ব তন র স?
৬৫ র প ব তন র স is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ৬৫ র প ব তন র স matter?
৬৫ র প ব তন র স matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

