খন্দকের পাথর ভাঙার মুহূর্তে যে আলো দেখেছিলেন রাসুল (সা.)
Banglaprabah.com – মহ নব স য ভ ব স – মদিনার চারপাশে গভীর পরিখা খননের কাজ চলছিল। খন্দকের যুদ্ধের সময়ে তীব্র শীত, খাদ্যের অভাব এবং চারদিকের ভীতি মুসলিমদের দিনকে করে তুলছিল অসহনীয়। হঠাৎ খননকাজে বাধা হয়ে দাঁড়াল একটি বিশাল, দুর্ভেদ্য পাথর। সাহাবিরা নবীজির কাছে বিষয়টি জানালেন। তিনি নিজেই শাবল হাতে খন্দকে নামলেন। বিসমিল্লাহ বলে প্রথম আঘাতেই পাথরের এক খণ্ড ভেঙে গেল এবং একটি অদ্ভুত আলোকচ্ছটা ঠিকরে বের হলো।
রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকবির দিয়ে উঠলেন, “আল্লাহু আকবার, আমাকে শামের (সিরিয়া) চাবিকাঠি দেওয়া হয়েছে; আল্লাহর কসম, আমি এই মুহূর্তে সেখান থেকে রোমানদের লাল প্রাসাদগুলো স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি!”
দ্বিতীয় আঘাতে আরেকটি অংশ ভেঙে গেল। তিনি ঘোষণা করলেন, “আল্লাহু আকবার, আমাকে পারস্যের চাবিকাঠি দেওয়া হয়েছে; আল্লাহর কসম, আমি মাদানেনের সাদা রাজপ্রাসাদ দেখতে পাচ্ছি।” তৃতীয় আঘাতে পুরো পাথরটি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল। তিনি বললেন, “আল্লাহু আকবার, আমাকে ইয়েমেনের চাবিকাঠি দেওয়া হয়েছে; আমি এখান থেকেই সানআর তোরণগুলো দেখতে পাচ্ছি।” (সুনানে নাসাঈ, হাদিস: ৩১৭৩)
মুনাফিকদের উপহাস আর বিশ্বাসীদের দৃঢ়তা
এই ঘটনার পর মুনাফিকরা উপহাস করে বলতে লাগল — যেখানে প্রাণ বাঁচানোর নিশ্চয়তা নেই, সেখানে এত বড় স্বপ্ন দেখা নিছক পাগলামি। পবিত্র কোরআনে তাদের এই মনোভাব তুলে ধরা হয়েছে:
“মুনাফিক ও যাদের অন্তরে ব্যাধি ছিল তারা বলছিল, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা তো প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।” (সুরা আহজাব, আয়াত: ১২)
কিন্তু যাদের অন্তরে বিশ্বাস খাঁটি ছিল, তারা এই কঠিন পরিস্থিতিতেও ভরসা হারাননি। শত্রুবাহিনী দেখেও তারা দৃঢ়কণ্ঠে বললেন:
“আল্লাহ ও তাঁর রাসুল তো আমাদের এই প্রতিশ্রুতিই দিয়েছিলেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সত্য বলেছেন; আর এ পরিস্থিতি তাদের বিশ্বাস ও আনুগত্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।” (সুরা আহজাব, আয়াত: ২২)
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, মাত্র কয়েক দশকের ব্যবধানে নবীজির সেই সুসংবাদের প্রতিটি বর্ণ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়িত হয়েছিল। সুরা ফাতহে মক্কা বিজয়ের সুসংবাদ এসে পৌঁছায় — খন্দকের সেই পাথর ভাঙার আলো আরও কয়েক বছরের মধ্যেই বাস্তবতায় রূপ নেয়।
সুসংবাদের বার্তা: আল্লাহর পরিচয়
নবীজি মানুষের জন্য এসেছিলেন বুকভরা আশা ও সুসংবাদের বার্তা নিয়ে। আল্লাহ তাআলা তাঁর পরিচয় তুলে ধরে বলেন:
“হে নবী, আমি তো আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে; আর আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে। আর আপনি বিশ্বাসীদের সুসংবাদ দিন যে তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে বিশাল অনুগ্রহ।” (সুরা আহজাব, আয়াত: ৪৫–৪৭)
আরবিতে এই আশ্বাসবাণীকে বলা হয় ‘আবশির’ বা ‘সুসংবাদ নাও’। চরম সংকটের মুহূর্তে এক ফোঁটা শীতল পানির মতো যদি কেউ এসে গভীর মমতা দিয়ে বলে, ‘হতাশ হও না, সুসংবাদ গ্রহণ করো’ — ভেঙে পড়া হৃদও নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস পায়।
মক্কার নির্যাতনের দিনে সোনালি ভবিষ্যতের স্বপ্ন
ইসলামের শুরুর দিনগুলোতে মক্কাতে একদল নিরীহ মানুষ বিশ্বাস ধরে রাখার অপরাধে নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। কোরাইশদের শত রক্তচক্ষুর সামনে দাঁড়িয়ে রাসুল (সা.) ঘোষণা করতেন:
“হে লোকসকল, তোমরা বলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই), তবেই তোমরা সফল হবে; এর মাধ্যমে তোমরা আরব জাহানের নেতৃত্ব পাবে, অনারবরাও তোমাদের কাছে নত হবে আর পরকালে তোমরা বেহেশতের অধিপতি হবে।” (ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, ১/২১৬, দারু সাদির, বৈরুত, ১৯৬৮)
এই ঘোষণা তখনকার বাস্তবতার কাছে ছিল অকল্পনীয়। নির্যাতনের মাঝেই তিনি সাহাবিদের এমন এক সোনালি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে ইতিহাসের পাতায় সত্য প্রমাণিত হয়।
সুসংবাদ পৌঁছানোর পদ্ধতি: সহজতা ও বিবেক
কোনো দায়িত্ব দিয়ে সাহাবিদের কোথাও পাঠানোর সময় তিনি একটি মূলনীতি শিখিয়ে দিতেন:
“তোমরা মানুষের মাঝে সুসংবাদ ছড়িয়ে দাও, তাদের মনে বিরক্তি বা ভয় তৈরি কোরো না; মানুষের পথ সহজ করো, তাদের জন্য বিষয়গুলোকে জটিল কোরো না।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৭৩২)
উপদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি বিবেক ও বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের কথা বলতেন। পবিত্র কোরআনে তাদের জন্য এক অনন্য সুসংবাদ এসেছে:
“অতএব সুসংবাদ দাও আমার সেই বান্দাদের, যারা মনোযোগ দিয়ে কথা শোনে এবং তার মধ্য থেকে যা সর্বোত্তম, তা অনুসরণ করে। এরাই তারা, যাদের আল্লাহ সঠিক পথ দেখিয়েছেন এবং এরাই প্রকৃত বুদ্ধিমান।” (সুরা জুমার, আয়াত: ১৭–১৮)
বিশ্বাসের সাক্ষ্য ও বেহেশতের নিশ্চয়তা
রাসুল (সা.) এ কথাও বলেছেন:
“আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি, যে বান্দা অন্তরের গভীর বিশ্বাস নিয়ে সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল, তারপর ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন করবে — সে নিশ্চিতভাবেই বেহেশতে প্রবেশ করবে।” (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২২১৮৭)
তিনি আরও বলেন:
“এই উম্মতকে সুসংবাদ দাও গৌরব, উচ্চ মর্যাদা, চূড়ান্ত বিজয় ও পৃথিবীতে তাদের প্রতিষ্ঠার। তবে তাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি আখেরাতের কাজ পার্থিব লাভের জন্য করবে, পরকালে তার কোনো অংশ থাকবে না।” (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২১২৮৮)
প্রতিদিনের জীবনে সুসংবাদের প্রতিফলন
অন্যের মন খারাপের দিনে একটু হাসিমুখে কথা বলা, কাউকে আশার বাণী শোনানো কিংবা ‘সব ঠিক হয়ে যাবে’ বলে সাহস জোগানো — এগুলো শুধু সামাজিক সৌজন্য নয়। এটি নবীজির সুসংবাদ-পৌঁছানোর পদ্ধতিরই একটি ছোট প্রতিফলন। যখন কেউ সংকটে ডুবে থাকে, তখন এক মমতামূলক বাক্যই তার ভেঙে পড়া হৃদকে নতুন করে দাঁড়
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is মহ নব স য ভ ব স?
মহ নব স য ভ ব স is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does মহ নব স য ভ ব স matter?
মহ নব স য ভ ব স matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

