দিল্লিতে হাসিনার সংবাদ সম্মেলন ও দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে কী বলছেন বিশ্লেষকেরা
দ ল ল ত হ স ন - শেখ হাসিনা গত বুধবার নৗাদিল্লিতে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন। ক্ষমতাচ্যুত এই প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সরকার নৗাদিল্লিতে সংবাদ
Table of Contents
দিল্লি থেকে শেখ হাসিনার ঘোষণা ও বিশ্লেষকদের মতামত
Banglaprabah.com – দ ল ল ত হ স ন – শেখ হাসিনা গত বুধবার নৗাদিল্লিতে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন। ক্ষমতাচ্যুত এই প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সরকার নৗাদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দমনের চেষ্টার সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত পলাতক আসামি হিসেবে শেখ হাসিনার অবস্থান। দেশে আওামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে নৗাদিল্লির ফরেন করসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিএস সাউথ এশিয়া) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অনলাইনে যুক্ত হন শেখ হাসিনা। প্রথমে বক্তব্য দেন তিনি, এরপর কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেন। দুই বছর ধরে দিল্লিতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অডিও বার্তা পাঠিয়ে আসছেন। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমে ই-মেইলের মাধ্যমে সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন। এই প্রথমবার দিল্লির কোনো অনুষ্ঠানে সরাসরি অনলাইনে বক্তব্য দিলেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতামত ও সম্ভাব্য কারণ
মাইকেল কুগেলম্যান, দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক, শেখ হাসিনার ঘোষণা নিয়ে মতামত প্রকাশ করেছেন। তিনি মার্কিন চিন্তা প্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক। সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা চলতি বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন। দেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার দুই বছর পর তিনি এমন ঘোষণা দেন। বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনা রাজনৈতিকভাবে নিজের গুরুত্ব বজায় রাখা, সমর্থকদের ধরে রাখা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওামী লীগকে আবার সক্রিয় করার মরিয়া চেষ্টা হিসেবে এমনটা বলছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাপানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়ার পেছনে তিনটি সম্ভাব্য কারণ তুলে ধরেছেন মাইকেল কুগেলম্যান। প্রথমত, তাঁর ধারণা হতে পারে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীন বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় তাঁর জন্য বেশি অনুকূল। কারণ, অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল। যে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড হয়, সেই রাও ওই সরকারের আমলেই হয়েছিল।
দ্বিতীয়ত, শেখ হাসিনা আদালতে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তাই তিনি আদালতে নিজের অবস্থান তুলে ধরে নিজের নাম কলঙ্কমুক্ত করতে চাইতে পারেন। কুগেলম্যানের মতে, সবচেয়ে সহজ ব্যাখ্যাটি হলো তিনি (হাসিনা) রাজনীতি ছেড়ে শুধু বাংলাদেশে ফিরে অবসর জীবন কাটাতে এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করতে চান।
রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাবনা
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে প্রায় নিশ্চিতভাবেই বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার করা হবে। একই সঙ্গে তাঁর প্রত্যাবর্তন সমর্থক ও বিরোধী উভয় পক্ষকেই সক্রিয় করে তুলতে পারে। এতে সহিংস সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং তাঁর বিচারপ্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে সরকারের ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।
ডিপ্লোম্যাটের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ৩০ বছর মেয়াদি ওই চুক্তি চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। চুক্তি নবায়নের সময় বর্তমানে গঙ্গায় পানিপ্রবাহের পরিমাণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দুই দেশের ওপর পড়া প্রভাব বিবেচনায় নিতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত চুক্তিটি নবায়ন করা গেলে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন শেখ হাসিনা সত্যিই দেশে ফিরতে চান। ওই নেতার মতে, দলের প্রতি নেতা-কর্মীদের আনুগত্যের প্রতিদান দেওয়ার একটি উপায় হলো তাঁর দেশে ফিরে আসা। আওামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ নেতা এবং বর্তমানে শেখ হাসিনার কড়া সমালোচক মাহমুদুর রহমান মান্না তাঁর (হাসিনা) দেশে ফেরার ঘোষণাকে নিজের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মধ্যে এমন কিছু নেতা আছেন, যাঁদের জনসমর্থন ও গ্রহণযোগ্যতা আছে। দল নিষিদ্ধ হওয়ার পর সেটিকে আবার ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করার জন্য শেখ হাসিনা তাঁদের কিছুটা সুযোগ দিতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি।’ মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, ‘তিনি (হাসিনা) দলের স্বার্থে দেশে ফিরবেন, এমন ধারণা অমূলক।’ ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন সিকদারের মতে, দেশে ফেরার হুমকি দিয়ে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপরও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে চান।
হাসিনা দেশে ফিরলে কী হতে পারে বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ খুব সীমিত থাকবে। তবে তাঁর উপস্থিতি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। কুগেলম্যান নিক্কেই এশিয়ারকে বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে প্রায় নিশ্চিতভাবেই বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার করা হবে। একই সঙ্গে তাঁর প্রত্যাবর্তন সমর্থক ও বিরোধী উভয় পক্ষকেই সক্রিয় করে তুলতে পারে। এতে সহিংস সংঘর্ষের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে এবং তাঁর বিচারপ্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে সরকারের ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে। কুগেলম্যানের মতে, ‘তাঁর শুধু দেশে ফিরে আসাটাই রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।’
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is দ ল ল ত হ স ন?
দ ল ল ত হ স ন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does দ ল ল ত হ স ন matter?
দ ল ল ত হ স ন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
