মাহবুব উল্লাহের মতামত: রপ্তানি আয় দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে
Banglaprabah.com – রপ ত ন পণ য র অর – জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পথচলার একটি নতুন দিকনির্দেশনা তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গত পাঁচ দশকের উন্নয়ন অর্জনের পর দেশটি এখন বাহ্যিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে আসার সময় এসেছে। স্বনির্ভরতার দিকে ঝুঁকতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় রপ্তানি পণ্য থেকে প্রাপ্ত অর্থ দেশের ভেতরেই রাখা জরুরি।
বিইউবিটি ইকোনমিক্স ক্লাবের আয়োজনে গত বুধবার আন্তর্জাতিক সম্মেলন কক্ষে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট–পরবর্তী বিশ্লেষণ ও বাংলাদেশ অর্থনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা’ শিরোনামে এই অনুষ্ঠানে একাধিক বিশেষজ্ঞ প্যানেলিস্ট অংশ নেন।
সম্পদ ও আয় বণ্টনে সামষ্টিক দৃষ্টিভঙ্গি
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ সম্পদ বণ্টন, আয় বণ্টন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলোকে সামষ্টিকভাবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে হলে বিনিয়োগযোগ্য মূলধনের উৎস চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
৫০ বছরের উন্নয়নের পর দেশকে এখন বাহ্যিক অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে সরে এসে অভ্যন্তরীণ মূল্য সংযোজন ও টেকসই উন্নয়নে মনোযোগ দিতে হবে।
তৈরি পোশাক খাতকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাও তিনি তুলে ধরেন। এছাড়াও তিনি বলেন, রপ্তানি পণ্যের অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।
কর-জিডিপি অনুপাত ও মেগা প্রজেক্টের প্রভাব
জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ দেশের কর-জিডিপি অনুপাত কম থাকার পেছনে এনবিআরের গঠনগত দুর্বলতাকে দায়ী করেন। তিনি আরও জানান, দেশের অনেক সম্পদ শুধুমাত্র ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থা বাজেট পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে।
উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণ হিসেবে তিনি বিগত সরকারের আমলে নেওয়া মেগা প্রজেক্টগুলোর উচ্চ ব্যয়কে দাখিল করেন।
বাজেট বিশ্লেষণ ও জ্বালানি অবকাঠামো
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিইউবিটির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মুহম্মদ মাহবুব আলী। তিনি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো বিশ্লেষণ করেন। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন। প্রকল্পের সফল ফলাফল নিশ্চিত করতে মান নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন।
জ্বালানি অবকাঠামো নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে মাহবুব আলী বলেন, বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। বরং এটি বর্তমান ব্যবস্থার আওতায় রাখা উচিত, যাতে এটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্তভাবে পরিচালিত হয়।
অন্যান্য বক্তব্য ও উপস্থিতি
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিইউবিটির ব্যবসায় ও অর্থনীতি অনুষদের ডিন অধ্যাপক সৈয়দ মাসুদ হোসেন বলেন, বাজেট-পরবর্তী একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের গতিপথ নির্ধারণের জন্য অপরিহার্য। এটি টেকসই অগ্রগতির জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত ও নীতিগত অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।
সভাপতির বক্তব্যে বিইউবিটির অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, এ ধরনের একাডেমিক উদ্যোগ তরুণদের অর্থনীতি বিষয়ে আগ্রহী করে তোলে। যা দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিইউবিটির অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তারেক ইমাম জাহিদ ও মো. রাকিবুল ইসলাম, বিইউবিটির তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক মুন্সী মাহবুবুর রহমান।

