এনসিপির গণিবহরে হামলার ঘটনা ও তিন দফা দাবি
Banglaprabah.com – আম দ র ওপর ধ র ব – সিলেটের গোলাপগঞ্জে এনসিপির গণিবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলাটি হত্যার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানান। হবিগঞ্জে গত মঙ্গলবারের হামলার পর আজ সিলেটেও এই ঘটনা উল্লেখ করে দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, তাঁদের ওপর ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ চালানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে একটি ভয়াবহ ও বীভৎস পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
হবিগঞ্জে হামলার শিকার জাতীয় ছাত্রশক্তির স্থানীয় নেতা আলিফ চৌধুরী ঢাকার আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁকে দেখে এসে হাসপাতালের বাইরে সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির নেতারা কথা বলেন।
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে আলিফের অবস্থা
এনসিপির চিকিৎসক সংগঠন ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব আবদুল আহাদ জানান, আলিফ চৌধুরীর বাম চোখে রড দিয়ে আক্রমণ করা হয়েছে। আক্রমণে চোখের কাঠামোগুলো পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। তাঁর চোখের কাঠামোটা রক্তপিণ্ডের মতো দলা পেকে নষ্ট হয়ে গেছে। বাঁ চোখে সে আর কখনোই কিছু দেখবে না। ডান চোখেও সে ঝাপসা দেখছে।
আলিফের চিকিৎসা নিয়ে সকালে চক্ষুবিজ্ঞানের চিকিৎসকেরা বোর্ড সভা করেছেন উল্লেখ করে চিকিৎসক আহাদ বলেন, সেই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকালে অস্ত্রোপচার হয়। তাঁর দৃষ্টিশক্তি আর কখনোই আসবে না।
আলিফের পারিবারিক পরিস্থিতি
উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে পড়া একটা ছেলে, যার বাবা অসুস্থতার কারণে হাঁটতে পারেন না, মা প্রতিবন্ধী। দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে, একজন বড় ভাই আছে। ভাইও খুব বেশি বুদ্ধিসম্পন্ন নন। পড়াশোনার পাশাপাশি আউটসোর্সিং-ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করে সংসারের পুরো দায়িত্ব সে বহন করত। এই অবস্থা আমাদের লজ্জা দেয়। তাঁকে হত্যা করার উদ্দেশ্যেই আক্রমণটা করা হয়েছিল।
তিন দফা দাবি ও বিএনপি সমালোচনা
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের কাছে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন আখতার হোসেন। এগুলো হলো-১. হামলার এক চোখ হারানো ও আরেক চোখও হারাতে বসা আলিফ চৌধুরীর চিকিৎসার ব্যয় সরকারকে বহন করতে হবে, আলিফ ও তাঁর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; ২. হবিগঞ্জে হামলাকারী ছাত্রদল-যুবদল ও বিএনপির চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের অবশ্যই গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় নিতে হবে; এবং ৩. এনসিপিসহ গণতান্ত্রিক বিরোধী দলকে কথা বলতে দিতে হবে ও এনসিপির জুলাই পদযাত্রাসহ সব ধরনের কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
হবিগঞ্জে হামলার প্রতিবাদে কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিতেও বিএনপি ও ছাত্রদল-যুবদলের গুন্ডারা হামলা করেছেন। একটা ভয়াবহ বীভৎস পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।
ক্ষমতাসীন বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ যেভাবে বিরোধী দলের ওপর হামলা-নিপীড়ন করত, এখন বিএনপি সরকার হামলার মাধ্যমে সেই পথে অগ্রসর হচ্ছে। ফ্যাসিবাদী জমানায় যেমন করে বিরোধী দলের ওপর নিপীড়ন করা হতো, তাদের কর্মসূচি বানচাল করা হতো, একই ধরনের পথে বিএনপি সরকার অগ্রসর হচ্ছে।
গণভোট মানলে পুলিশ বাহিনীকে তারা দলীভাবে ব্যবহার করতে পারত না, বিরোধী দলের ওপর নিপীড়ন করতে পারত না, আমরা হতো আলিফের চোখ অন্ধত্বের দিকে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে পারতাম।
সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন
এসব হামলার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি, হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, বিএনপিও কারও বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়নি।
আমরা শঙ্কা করছি, এটা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের পৃষ্ঠপোষকতাতেই হচ্ছে, যেহেতু তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এটা দেশের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, আলিফ চৌধুরীর চোখে রড ঢুকিয়ে দেওয়ার মতো বর্বরোচিত হামলার সাক্ষী আমরা হলাম বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর। দুঃখজনক বিষয়, আলিফ আর কখনোই ভালো করে এই পৃথিবীকে স্বাভাবিক মানুষের মতো দেখতে পাবে না। তাঁর একটি চোখ স্থায়ীভাবেই নষ্ট হয়ে গেছে, আরেকটি চোখেও সে সম্পূর্ণ রূপে দেখতে পাচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন সঞ্চালনা করেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ।

