আমিরাতের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে হামলা, অভিযোগ ইরানের দিকে, প্রতিশোধের ইঙ্গিত
আম র ত র প রম ণব – সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরান বা ইরানের সহযোগীদের কেউ একজনকে দায়ী বলে মনে করছে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে ঘটে গেলো হামলা এবং আগুনের ঘটনা। আমিরাত হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে এ হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায় যে গত রোববার আবুধাবির আল-ধাফরা অঞ্চলে অবস্থিত বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমান্তে একটি ড্রোন আক্রমণ করে। এ ঘটনায় কেন্দ্রের জেনারেটরে আগুন ধরে যায়। কিন্তু হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
আমিরাতের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছেন যে হামলায় কেন্দ্রের কার্যক্রম ব্যাহত হয়নি। তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে। জনজীবনে কোনো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই।
আনোয়ার গারগাশ বলেন, ‘বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা এই এলাকার চলমান উত্তেজনা মারাত্মকভাবে বাড়াবে।’
আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এ হামলার বিষয়টি আইএইএ মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসিকে বিশদ জানান। তিনি বলেন, ‘পারমাণবিক নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ সামরিক কার্যকলাপ পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।’
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘটনার তদন্ত চলছে। হামলার উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
এ হামলার জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার আমিরাতের রয়েছে। সৌদি আরব এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। যদিও সম্প্রতিক সময়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠলেও সৌদি আরব ও আমিরাতের কথোপকথন হয়েছে।
ইরানে ‘গোপন হামলা’—সৌদি আরব ও আমিরাতের ‘নীরব যুদ্ধের’ ভবিষ্যৎ কী
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে দুই হাজার কোটি ডলার খরচ করে বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২১ সালে এ কেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যায়। আমিরাতের বিদ্যুতের মোট চাহিদার প্রায় ২৫ শতাংশ এ কেন্দ্র পূরণ করে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর কেন ক্ষুব্ধ ইরান, বারবার হুঁশিয়ারই—বা করছে কেন
