মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, পরীক্ষা নয়, আগে শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা
ম নন য় শ ক ষ মন – মানুষ প্রকৃতির সামনে অসহায় হয়ে পড়ে। বন্যা, অতিবর্ষণ বা জলাবদ্ধতা কোনো সময় স্থির ক্যালেন্ডারে মেনে চলে না। এমন সময় রাষ্ট্রের প্রতিটি কর্ম হতে হবে বাস্তবমুখী, সংবেদনশীল এবং মানবিক। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার বিতর্ক বিশেষ করে স্থানীয় পরিস্থিতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রশ্ন আসছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা আর যোগাযোগ ব্যবস্থার গুলি বিঘ্নিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, সমান সুযোগ আর ন্যায়সংগত পরিবেশের প্রতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়া প্রয়োজন।
এইচএসসি পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ বিভিন্ন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এ পরীক্ষার সম্মুখীন হওয়া সম্ভব হয় ভবিষ্যৎ পেশা বা স্বপ্নের প্রতি সম্পূর্ণ নির্ভর করে। কিন্তু কোনো অঞ্চলে শিক্ষার্থী কোমরসমান পানি পেরিয়ে পরীক্ষার কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হন, তাহলে নৌকার অভাব বা বিদ্যুৎ সংকটের কারণে প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয় না। এ পরিস্থিতিতে সমান সুযোগের বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে সামনে আসে।
সরকার চট্টগ্রাম বিভাগে পরীক্ষা স্থগিত করেছে। এটি পরিস্থিতি আয়োজনের অনুকূল নয় বলে বিবেচিত হয়েছে। কিন্তু দেশের অন্য অঞ্চলগুলিতেও দুর্যোগের চিহ্ন দেখা দিয়েছে। তাই প্রশ্ন উঠছে, কোনো তথ্য আর মানদণ্ডের ভিত্তিতে অঞ্চলভেদে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা স্পষ্ট করে প্রকাশ করা আবশ্যক।
দুর্যোগের কারণে কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে যাওয়া বা অসম প্রতিযোগিতার সামনে আসা নিশ্চিত করে দেখা যাবে কার্যকরী পরিস্থিতির সাথে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা হবে বর্তমান সিদ্ধান্ত যৌক্তিক ও মানবিক হবে। শিক্ষাব্যবস্থার সাফল্য নয় সময়মতো পরীক্ষা সম্পন্ন করার মধ্যে সীমাবদ্ধ। এর প্রকৃত সাফল্য নিহিত আছে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার মধ্যে।
লেখক: হাসান মাহমুদ শুভ, মেডিক্যাল শিক্ষার্থী, ঢাকা। নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-
